ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানকে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত শিগগিরই নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইরানের কার্যকর অর্থনীতি নেই এবং দেশটির সরকার সেনাসদস্যদের বেতন দিতেও সমস্যায় পড়েছে।
ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ওবামা প্রশাসনের সমালোচনা
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার পরিবর্তে ওই প্রশাসন দেশটিকে বিপুল অর্থ দিয়েছিল।
এর আগে আলাস্কায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আমরা কী করি, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করুন। আমরা তাদের বড় ধরনের আঘাত দেব।’
যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অষ্টম মাসে গড়িয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় হলেও যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
গত রোববার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালি সাত দিনের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় থাকার পর্যায়ে আর নেই ইরান।
গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সামরিক অভিযান বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি অস্থায়ী কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সংঘাত বন্ধে আরও বিস্তৃত সমঝোতা চায় তেহরান।
যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।