ক্যামব্রিয়ানের রোবট উদ্ভাবন ও ইংরেজি বিতর্কে মুগ্ধ রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ক্যামব্রিয়ানের রোবট উদ্ভাবন ও ইংরেজি বিতর্কে মুগ্ধ রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা

কেউ তৈরি করেছে পানি নিষ্কাশনের আধুনিক মডেল, কেউ দেখিয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান। আবার ইংরেজি বিতর্কের মঞ্চে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তিতে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। রোবটিকস, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন ও ইংরেজি বিতর্কের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে রাজশাহীর ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ‘মেধা ও সৃজন’ উৎসব।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় স্কুল ক্যাম্পাসে উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী, ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তিবোধ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. মোসা. নুরজাহান বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্কুলের চেয়ারম্যান রমেন্টু চাকমা।

রোবটিকসে খুদে উদ্ভাবকদের চমক

বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ধরনের রোবট ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীরা। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যার বিকল্প সমাধান নিয়ে তৈরি মডেলগুলোতে উঠে আসে তাদের বিজ্ঞানমনস্কতা ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তার পরিচয়। প্রকল্প তৈরির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ধারণাই তুলে ধরেনি, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টাও করেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন কিছু তৈরির আগ্রহ এবং নিজেদের ভাবনা উপস্থাপনের সুযোগ তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।

ইংরেজি বিতর্কে যুক্তির লড়াই

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এতে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সরকারি দল এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিরোধী দলের হয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে। ইংরেজিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা, প্রতিপক্ষের যুক্তির জবাব দেওয়া এবং উপস্থিত দর্শকদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভাষাগত দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক চিন্তাশক্তির পরিচয় দেয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মেধাবীদের সম্মাননা

বিতর্ক ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর পাশাপাশি উৎসবে নৃত্য, ছড়া, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাহিত্য রচনায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। এসব পরিবেশনায় তাদের সৃজনশীলতা ও বহুমুখী প্রতিভা ফুটে ওঠে। এ ছাড়া বৃত্তি পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের বেশি পাওয়া ১৫০ শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও কৃতিত্ব অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের মানবিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা দিতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মা-বাবার সেবা করতে হবে। জীবনে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা অর্জনে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের জন্য শুভকামনা জানান।

পাঠ্যবইয়ের বাইরে বহুমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব

আয়োজকেরা জানান, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিজ্ঞানচর্চা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, নাচ, গান এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকেরা জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকদের আচরণ ও নিয়মশৃঙ্খলা তাঁদের আকৃষ্ট করেছে। মানসম্মত শিক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সন্তানদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। উৎসবের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি প্রযুক্তিতে দক্ষ, যুক্তিবাদী, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে