হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১৭০

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১৭০
ছবি: সংগ্রহীত

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭০ জনে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন এবং সিলেট বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর হিসাব গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

দুই লাখ ছাড়াল সন্দেহভাজন রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ৭১২ জনের শরীরে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৪ জন। এ সময়ে ১ হাজার ৪৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৭ জন। তবে দীর্ঘ সময়ের মোট ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। ফলে এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ সমন্বিত হিসাব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

টিকাদান ও রোগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ

দেশে হামের এই প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান এবং আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্যবিদদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে শিশুদের হামের টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি প্রাদুর্ভাব বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে গণটিকাদান কর্মসূচি চালানো হলেও প্রায় ৪০ লাখ শিশু এর আওতার বাইরে থেকে যায়। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও টিকাদানের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

হাম সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এ রোগে সংক্রমিত হতে পারেন। প্রাদুর্ভাবের সময়ে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে