ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ডেঙ্গু সমস্যা নিয়ে প্রায় সারা বছরই কমবেশি আলোচনা, সংশ্লিষ্টদের তরফ থেকে কার্যকর উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। রুটিনমাফিক কিছু কার্যক্রমও চালু থাকে। কিন্তু সমস্যাটি মোকাবিলায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও সে কথাই বলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৯৪ জন মারা গেছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ২১৬ জনের বেশি রোগী। সামপ্রতিক তথ্য বলছে, দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের তিন-চতুর্থাংশের বেশি এবং মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ঘটছে ঢাকার বাইরে। ডেঙ্গুর এ পরিস্থিতি ইতোমধ্যে অতীতের ভয়াবহ বছরগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এবং এটি কেবল ঢাকা নগরীতে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে। এককথায়, দেশে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রার ওঠানামা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাতজনিত জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। পাশাপাশি, আক্রান্তদের যথাসময়ে চিকিৎসা না নেওয়া এবং নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বস্তুত ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার এখন সারা দেশের জন্যই হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল এ প্রাণঘাতী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রচলিত মশা নিধন কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, সিটি করপোরেশনগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলোয় নিয়মিত ও কার্যকর মশক নিধন অভিযান চালাতে হবে। ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, কার্যকারিতা ও সঠিক মাত্রা নিয়মিত মনিটর করতে হবে, যাতে ভেজাল বা নিম্নমানের কীটনাশকের ব্যবহার রোধ করা যায়। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে হলে এডিস মশা নিধন করতে হবে। মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। জমাটবদ্ধ স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা হয়। তাই ঘরের আশপাশে পানি জমাটবদ্ধ অবস্থায় রাখা যাবে না। এডিস মশা ঘরের ভেতরেই থাকে। দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই এখন থেকে সকলকে সচেতন হতে হবে। নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করলেই মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।