কুড়িগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
কুড়িগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে প্রকাশ্য অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এসব বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে ১১ জন শিক্ষকের বদলি আদেশের মধ্যে অন্তত ৮ জনের ক্ষেত্রে বদলি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা ইউএনও মাহমুদুল হাসান অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। তার দাবি, নীতিমালা মেনেই সব বদলি সম্পন্ন করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের স্কুলে বদলির জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। মহসিনা নামে এক শিক্ষিকার অভিযোগ, তিনি তার পছন্দের স্কুলে বদলির জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামানকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু পছন্দের স্কুলে বদলি না করে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করায় তিনি বদলির আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ওই শিক্ষিকার পছন্দের তালিকায় থাকা তিনটি স্কুলের মধ্যে একটি স্কুলে তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বদলি তালিকার ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. তামান্না ইসলাম তৃষাকে নাওশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে তাকে সেখানে পদায়ন করা হয়।

তালিকার ৫ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. নুর আলমকে গৌড়মোহনহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাজারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। গৌড়মোহনহাট স্কুলে ৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত ছিলেন মাত্র একজন শিক্ষক। তাকেও বদলি করায় বিদ্যালয়টি বর্তমানে শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বিদ্যালয়ে ৫ জন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত থাকলে এবং বদলির ফলে বিদ্যালয়টি শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়লে বা শিক্ষক সংকট তৈরি হলে সেখান থেকে বদলি করা যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করেই একাধিক বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একইভাবে ১৫২ জন শিক্ষার্থী ও ৬টি অনুমোদিত পদ থাকা মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন মাত্র দুইজন শিক্ষক। তালিকার ১১ নম্বরে থাকা মোছা. মাসুমা আক্তারকে সেখান থেকে মুদাফৎথানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ফলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য এখন একজন শিক্ষক রয়েছেন। যদিও ওই শিক্ষিকা বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন।

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় বদলির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই একজনের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করা হয়েছে। তাকে এখন বদলি না করলে পরে আর বদলি হতে পারবেন না। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ, বদলি নীতিমালায় প্রতি মাসে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সভা করে বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপরও মানবিক কারণ দেখিয়ে ছুটিতে থাকা শিক্ষককে বদলি করার পেছনে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে।

বদলি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠা বদলি আদেশ বহাল রাখতে অনড় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "নীতিমালা লঙ্ঘন হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যাদের বদলি করা হয়েছে, তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা আছে। যারা আবেদন করেছে, প্রত্যেকের জ্যেষ্ঠতার তালিকা দেওয়া আছে। আপনারা গিয়ে দেখতে পারেন।

প্রতিষ্ঠান শূন্য রেখে বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওখানে বদলি করা হয়েছে কারণ ওখানে যে কয়জন শিক্ষক আছে, সেই কয়জন শিক্ষকই দেওয়া হবে। এ ঘটনায় বঞ্চিত শিক্ষকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে