মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার কাজীপুরা গ্রামে একটি পারিবারিক কবরস্থানে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব আবুল কাশেমের কবর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজীপুরা গোরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রদূত আবুল কাশেম ও পরিবার ৩৯ শতাংশ জমি দান করেন। জমি প্রদানের পাশাপাশি তারা আর্থিক সহযোগিতাও করেন। এতে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তৎকালীন গোরস্থান পরিচালনা কমিটি তাদের পরিবারের সম্মানে তিন শতাংশ জায়গা নির্দিষ্ট করে তাদের পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ঘোষণা করে। সে অনুযায়ী জায়গাটির চারপাশে স্টিলের বেড়া দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রদূত আবুল কাশেমসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, গত দুই বছর ধরে সুইজারল্যান্ড প্রবাসী শাহাদাত হোসেন নামে এক ব্যক্তি এই নির্দিষ্ট তিন শতাংশ জায়গা নিয়ে বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং ইতিপূর্বে কয়েকবার বেড়া কেটে ফেলার হুমকি দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কাজীপুরা ঈদগাহ ও কবরস্থান কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, কবরস্থানের জন্য আবুল কাশেমের পরিবার ৩৯ শতাংশ জমি ও টাকা-পয়সা দান করেছিল। সম্মানের খাতিরে আমরা ৩ শতাংশ জায়গা তাদের পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করে বেড়া দিয়ে দিই। কিন্তু আজ সকালে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় শাহাদাত এসে স্টিলের বেড়াটি কেটে নিয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, 'সকালে দেখলাম দড়িকান্দি গ্রামের মৃত গোলাম মাওলার ছেলে শাহাদাতের নেতৃত্বে একদল লোক এসে বেড়া কেটে নিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক কারণে এটি করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে রাজনীতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাখা উচিত। এদিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সীমানার স্টিলের বেড়া কেটে ফেলা হয়েছে, কবরস্থানের উত্তর পাশের ইট ও রড উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং বিভিন্ন অংশের মাটি খোড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে ঈদগাহ ও গোরস্থান কমিটির বর্তমান সভাপতি আহসান উল্লাহ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, 'পূর্বের কমিটি রেজুলেশন করে জায়গাটি তাদের দিয়েছিল। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে কমিটি নেবে, শাহাদাত কে? সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সে এই কাজ করেছে। আমরা এর বিচার চাই। এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত আবুল কাশেমের ছোট ভাই ও গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোন বলেন, 'যে পরিবার কবরস্থানের জন্য জমি ও টাকা দিল আজ তাদের কবরেই ভাঙচুর চালানো হচ্ছে! আমার বড় ভাই সাবেক রাষ্ট্রদূত আবুল কাশেমের কবরও রেহাই পায়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি। ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাতের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার দড়িকান্দির বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার এক ভাতিজা জানান, শাহাদাত ভাটেরচর গেছেন এবং তার মোবাইল নম্বর তাদের কাছে নেই।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, "ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমে প্রথম জানলাম। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে