অভিযোগের তীর উপ-পরিচালক ও ডিডির বিরুদ্ধে

রংপুরে মাউশি কার্যালয় থেকে পাচারের সময়, ফাইলপত্র আটক নিয়ে তোলপাড়

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
রংপুরে মাউশি কার্যালয় থেকে পাচারের সময়, ফাইলপত্র আটক নিয়ে তোলপাড়

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক রংপুর বিভাগীয় অফিস থেকে ৪ বস্তা গুরুৎপুর্ন ফাইলপত্র দিনেদুপুরে পাচারের সময় এলাকাবাসি কর্তৃক আটকের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। অভিযোগের তীর বিভাগীয় উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার ও পরিচালক মাজেদ আলীর বিরুদ্ধে। তারা ঘটনাটিকে চুরি দাবি করলেও  স্টোর তালাবদ্ধ ও অক্ষত থাকা অবস্থায় কিভাবে এসব ফাইল বস্তাবন্দি হয়ে  বাইরে গোলো তার কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি।  সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার দিকে রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগীয় অফিসের দক্ষিণ দেয়ালের পাশের সড়কে অটো-রিকশায় তোলা হচ্ছিল চারটি সেলাই করা বস্তা। এলাকাবাসির সন্দেহ হলে তারা তা আটকে দেন। খবর দেয়া হয় পুলিশে। এসময় সেখানে ছিলেন অফিসের কর্মচারী  আবু তালেব ও গাড়ি চালক মোহাম্মদ জাহিদ। তাদের দাবি পরিচালকের নির্দেশে তারা বস্তাগুলো নিতে এসেছেন। এঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।

অফিস সহকারী  আবু তালেব জানান, দ আমাকে পরিচালক স্যার পাঠিয়ৈ দিলো যে পিছনে চারটা বস্তা আছে, বস্তা কয়টা নিয়ে আসো। এই উনি বলছে পিছনে চারটা বস্তা আছে নিয়ে আসো। বলেছে যে যে চারটা ফাইলের বস্তা আছে, ঐ বস্তা চারটা তাড়াতাড়ি অফিসে নিয়ে আসো। সেজন্য আমি এখানে এসেছি। যারা রাত্রে ক্রাইম করে তারা হয়তোবা নিয়ে আসছে। ফাইলগুলো আমাদের স্টোর রুমে ছিল।’  ওই অফিসের গাড়ি চালক মোহাম্মদ জাহিদ জানান, ‘ কীভাবে অফিসের কাগজপত্র এখানে আসলো ।  কীভাবে রাখছে এটা আমি দেখি নাই। আমি  অফিসের ভিতরে থাকি, আমি কীভাবে জানবো এটা কীভাবে আসলো । অফিসের গেইট থেকে না, আমি ওই মাথা থেকে দেখছি। পরে আমাদের অফিসের দোতলার একজন লোক, তারে আবার দেখছি। তাই আমি এদিকে আগাইলাম। আগানোর পরে দেখতেছি এই জায়গায় নাকি কতগুলা ফাইল ধরা পড়ছে। এখন কারা আনছে, কীভাবে আনছে- এ সম্পর্কে আমার কোনো জানা নাই। আমি আইসে দেখি আপনারা ছবি তুলতেছেন, কথা বলতেছেন।"

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসি আশিক জানান, ‘ আমরা তো এখানকার স্থানীয়, আমরা এদিকে যাচ্ছিলাম। এখানে তো দেখছিলাম যে- এখানে কিছু বস্তা পড়ে আছে আর... আমি আসার আগেই দেখি যে পুলিশ ভাইয়েরা এখানে আছেন। তারপরে অফিসের একজন কর্মকর্তা । এটা আসলে একটা অফিসের খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এটা আসলে এইভাবে পড়ে থাকবে কেন, বা এটা অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকবে কেন? আসলে প্রশাসনকে খতিয়ে দেখা উচিত। খতিয়ে দেখলে আমার মনে হয় এই বিষয়টার একটা সুরাহা হবে। একটু খতিয়ে দেখুক, দেখলে আমার মনে হয় ভালো হবে।"

পুলিশ জানায়, বস্তাগুলোতে বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন কলেজের গুরুত্বপুর্ন নথিপত্র ছিল। উদ্ধার করে থানায় না নিয়ে আবারও ওই অফিসেই পাঠায় পুলিশ। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার এসআই লিটন জানান, "একজন ডিউটি অফিসার আমারে সোয়া ঘণ্টা আগে জানাচ্ছে যে এখানে চারটা বস্তা পড়ে আছে। একজন লোকের দেখে একজন লোক বস্তা গুলো রেখে পালায় চলে গেছে। আমি ঘটনাস্থলে এসে বস্তাগুলো পাই। জানতে পারে যে এই বস্তা গুলা এই শিক্ষা অফিসের। তার পরিচালকের সাথে কথা বলি। উনি লোক পাঠায়, লোক পাঠায় তাদের বস্তা তারা নিয়ে যাচ্ছে।

পরিত্যক্ত অবস্থায় যে বস্তাগুলো পাওয়া গেলো আইনিগত কোনো ব্যবস্থা নিবেন কিনা প্রশ্নের জবাবে এসআই লিটন জানান, ‘ ঐটা পরিচালক স্যারকে বলা হইছে। উনি যদি কমপ্লেন দেয়, আমরা মামলা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা হবে। ’ মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও পরিচালক ঘটনাকে চুরি দাবি করলেও যে ঘর থেকে চুরির দাবি করা হয় সরেজমিনে দেখা গেছে সেটি ছিল তালাবদ্ধ । কোথাও কোন ভাঙ্গা ছিল না। ভেতরে অক্ষত অবস্থায় ছিল বিভিন্ন ফাইল। জানালা দিয়েও বস্তা বের করা সম্ভব নয়। মাউশি, রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার জানান,   "সব হচ্ছে অনলাইনে কাজ হচ্ছে অনলাইন, কিন্তু অফলাইনের কোনো কাজ হয় না। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা যে ওই ফাইলগুলো ওখানে গেলো কেমন করে। আমি তিন মাস হচ্ছে ডাইরেক্টর পদে, মাত্র তিন মাস হচ্ছে এসেছি। আমি জানি না কোন ফাইল কোথায় রাখা হয়েছে। তারপরেও আমি ডাইরেক্টর স্যারকে বলবো যে স্যার আপনাদের বুঝায়া বলবে আরকি আমার ফাইল বিষয়ে।"

এ ব্যপারে মাউশি রংপুর অঞ্চল উপ-পরিচালক প্রফেসর মাজেদ আলী জানান, ‘ ‘স্টোরে তালা ভাঙা ছিল না।  জানালা দিয়ে সব নিয়ে গেছে। তাহলে আস্ত সেলাই করা বস্তা  কিভাবে বের হলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার মনে হয় ওরা বাইরে গিয়ে সেলাই করেছে। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে।’ 

নথিপত্র গায়েব করে দুর্ণীতি আড়াল করার চেস্টা হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেটা আমার জানা নাই।’ গেলো ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন ওই অফিসে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু কলেজের নথি দেখতে চাইলে পরিচালক ও উপ পরিচালক নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন দুদককে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে