রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আসা নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, বড় ও জটিল এই প্রকল্পে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে বিশ্ব হাসি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘ঠোঁট-তালু কাটা কোনো অভিশাপ নয়, চিকিৎসায় ভালো হয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রূপপুর প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সামনে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে। এ জন্য সবার দোয়া চান তিনি।
প্রকল্পটির জটিলতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রূপপুরে বিপুলসংখ্যক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কোনো যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে সেটি পরীক্ষা করে আবার চালু করতে হয়। এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করার পর যন্ত্রপাতি ঠান্ডা করতেও সময় লাগে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “এটি থ্রি জেনারেশন প্লাস একটি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট। সব ধরনের সেফটি ও সিকিউরিটি ঠিক রেখে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আপনারা একটু সময় দিন।”
রূপপুরের জ্বালানি আসা নিয়ে কোনো সংকট আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, না, না। ইনশাল্লাহ নাই, ইনশাল্লাহ নাই।”
প্রকল্পটি নিয়ে সঠিক তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা চাইলে তার কাছে, তার সচিব, প্রকল্পের পিডি বা এমডির কাছ থেকে তথ্য নিতে পারেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তথ্য জানতে গেলে প্রকল্পের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এতে দেশের মানুষও বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাই সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। যেকোনো সময় তাকে প্রশ্ন করা যাবে বলেও জানান ফকির মাহবুব আনাম।
রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ধারিত সময় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, বড় প্রকল্পে অনেক সময় আগে থেকে অজানা নানা সমস্যা সামনে আসে। ফলে আগে একটি নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হলেও সবসময় সেই সময়সূচি ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমরা একটা ডেট দিয়েছিলাম। যেহেতু আননোন প্রবলেমগুলো চলে আসে। আমরা বাড়ি বানাতে গেলেও বলি দুই বছরে শেষ করব, কিন্তু বাড়ি সবসময় দুই বছরে শেষ করতে পারি না।”
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াটের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই ছোটখাটো কোনো বিষয় সামনে এলেও নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
ভুল বা যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আল্লাহর ওয়াস্তে, একটু জেনে-শুনে নিউজগুলো দিন। মানুষকে মিসলিড করবেন না, জনগণকে মিসলিড করবেন না।”
তিনি বলেন, রূপপুরের মতো বড় প্রকল্পে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।