ফৌজদারি অপরাধের বিচার ফৌজদারিভাবেই হোক: রাড্ডা ইস্যুতে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ফৌজদারি অপরাধের বিচার ফৌজদারিভাবেই হোক: রাড্ডা ইস্যুতে আসিফ মাহমুদ
ছবি: সংগৃহীত

রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শুধু দলীয়ভাবে বহিষ্কার বা ব্যবস্থা নিলেই হবে না, ফৌজদারি আইনে বিচার করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ফৌজদারি অপরাধের বিচার ফৌজদারি আইনেই হওয়া উচিত।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আসাদগেটের সেইন্ট খ্রিস্টিনা চার্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরের প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেখানে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার এক ধরনের দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে গেছে। তবে তার মতে, ঘটনাটি স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধ। তাই দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দলীয়ভাবে কাউকে বহিষ্কার করার পরও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। ফৌজদারি ব্যবস্থা না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘটতে পারে। একটি ঘটনা ঘটার পর শুধু প্রতিবাদ বা ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এমন ব্যবস্থা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ করার আগে কেউ একাধিকবার ভাবেন। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উপাসনালয় ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, বিগত এক মাসে উপাসনালয়ে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্র হিসেবে এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ আসাদগেটের সেইন্ট খ্রিস্টিনা চার্চের ঘণ্টা চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

সামনে দুর্গাপূজা থাকায় সংখ্যালঘুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার অভিযোগ, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে পুঁজি করে পাশের দেশ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে। দুর্গাপূজার সময় এমন কোনো ঘটনা ঘটলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

তিনি জানান, গত দুই বছর বিশেষ করে দুর্গাপূজার আগে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছিল, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে এবার তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে নাগরিক হিসেবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে যে দাবি করেছে, তারও সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যের সঙ্গে সেই দাবির মিল নেই। তার ভাষায়, “একটা হচ্ছে রাজনৈতিক বক্তব্য, আরেকটা হচ্ছে তথ্য। আমার তথ্য তো সেটা বলছে না।”

অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, কোনো ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলে অন্যরা অপরাধ করার আগে সতর্ক হবে। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে একই ধরনের অপরাধ বারবার ঘটতে পারে।

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে দুই শতাধিক মানুষ হামলা চালালেও গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার প্রশ্ন, “গ্রেপ্তার হয়েছে কয়জন? ১ শতাংশ, ২ শতাংশ।”

এনসিপি এসব বিষয়ে কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, দলটি সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি জনগণের যেকোনো অসুবিধায় পাশে থাকার কাজ করছে।

রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “যথেষ্ট আওয়াজ না তুললে ও এমন ঘটনাগুলোকে যথাযথভাবে তুলে না ধরলে, আলোচিত না হলে এ দেশে বিচার পাওয়া যায় না।” ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত এলাকাতেও এমন অনেক ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি। গণমাধ্যমে সেসব ঘটনা না আসায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির মুখপাত্র।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে