মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ আর নেই, বয়স হয়েছিল ১০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ আর নেই, বয়স হয়েছিল ১০০

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী মারা গেছেন। সোমবার কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। তবে মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সিতি হাসমাহর পরিবারের বরাত দিয়ে সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।

এক বিবৃতিতে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দেশবাসী সিতি হাসমাহর মাতৃসুলভ উপস্থিতি ও অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করবে। তিনি মাহাথির মোহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মালয়েশিয়ায় ‘ইবু নেগারা’ বা ‘জাতির মা’ নামে পরিচিত ছিলেন সিতি হাসমাহ। নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন এবং দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তায় তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়।

সিতি হাসমাহ ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রথমদিককার মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। সেখানেই মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরের বছর ১৯৫৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সাত সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে সমাজকর্মী মারিনা, ব্যবসায়ী মিরজান ও মোখজানি এবং কেদাহর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুখরিজ রয়েছেন।

চিকিৎসক হিসেবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেন সিতি হাসমাহ। স্বামীর নিজ রাজ্য কেদাহেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশটির প্রথম নারী স্টেট মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান।

১৯৮১ সালে মাহাথির প্রথমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সিতি হাসমাহ দেশজুড়ে আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্বামীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাশে থাকলেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছিলেন তিনি। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে মাহাথিরের সরকারি সফরেও প্রায়ই তাঁর সঙ্গী ছিলেন।

মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন ইতিহাসের একটি স্মরণীয় ঘটনাও সিতি হাসমাহর জনপরিচিতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ১৯৯২ সালে দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশটির জাতীয় দল থমাস কাপ জয় করলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর আবেগঘন উদ্‌যাপন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। সে সময় তিনি ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অব মালয়েশিয়ার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। খেলোয়াড়দের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন বলে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও সিতি হাসমাহর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও মালয়েশিয়ার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল।

২০১৬ সালে প্রকাশিত নিজের স্মৃতিকথায় সিতি হাসমাহ মাহাথিরকে কেদাহর ধানখেতের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিজের পড়াশোনা শেষ করার ক্ষেত্রে মাহাথিরকে অনুপ্রেরণা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

সিতি হাসমাহর মৃত্যুতে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে