বেদখলে পাউবোর ১৩ পুকুর,রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
বেদখলে পাউবোর ১৩ পুকুর,রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

সরকারি সম্পদ,অথচ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। পানি আছে,জলাশয় আছে; কিন্তু নেই সঠিক ব্যবস্থাপনা। বছরের পর বছর দখলে পড়ে আছে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ১৩টি পুকুর। সদর,শৈলকুপা ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এসব পুকুরের মোট আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর।পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে,বছরে এসব জলাশয় থেকে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব। অথচ দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া না গেলে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগছে না। ফলে একদিকে সরকারি সম্পদের ব্যবহার হচ্ছে না,অন্যদিকে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। শুধু রাজস্ব নয়,এসব জলাশয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কর্মসংস্থানেরও সম্ভাবনা। পুকুর গুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া গেলে মাছ চাষের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে তৈরি হতে পারে কাজের সুযোগ। মাছচাষি থেকে শুরু করে জেলে, শ্রমিক,মাছ ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মী-বিভিন্ন শ্রেনির মানুষ এর সুফল পেতে পারেন।

তথ্যমতে,হরিণাকুন্ড উপজেলায় চারটি,শৈলকুপায় পাঁচটি এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় চারটি পুকুর রয়েছে। হরিণাকন্ডুর চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৫ দশমিক ৪৩ একর। এগুলো থেকে সম্ভাব্য রাজস্ব ধরা হয়েছে ৫৪ হাজার টাকা। শৈলকুপায় থাকা পাঁচটি পুকুরের মোট আয়তন ৬ দশমিক ৬০ একর। সম্ভাব্য রাজস্ব ৬৬ হাজার টাকা। আর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৩ দশমিক ২৫ একর। এসব পুকুর থেকে সম্ভাব্য রাজস্ব ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে ১৩টি পুকুরের আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।স্থানীয়দের ভাষ্য,সরকারি সম্পত্তি দখলে পড়ে থাকলে সাধারণ মানুষেরও কোনো উপকার হয় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল আরও পাকাপোক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন,সরকারি পুকুর দখলে পড়ে থাকলে সরকারের রাজস্বও আসে না,এলাকার মানুষও কোনো সুবিধা পায় না। এগুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হলে সরকার যেমন আয় করবে,তেমনি স্থানীয় মানুষও মাছ চাষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।আরেক বাসিন্দা রহিম মন্ডলের ভাষ্য,পুকুর গুলো যদি সরকারি সম্পত্তি হয়,তাহলে এগুলো ফেলে না রেখে সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা দরকার। পরে ইজারা দিলে সরকারও রাজস্ব পাবে এলাকার অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে।স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষায়,পুকুর উদ্ধার করে যদি মাছ চাষ করা যায়,তাহলে একই সঙ্গে সরকার রাজস্ব পাবে এবং অনেক মানুষের কাজের সুযোগ হবে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।এদিকে জলাশয় দখলমুক্তের কাজ চলছে জানিয়ে  

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন,'সরকারি জলাশয় দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন যেসব জলাশয় দখলে রয়েছে,সে গুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি যাতে অবৈধভাবে কেউ ভোগদখল করতে না পারে,সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রঞ্জন কুমার দাস আরও বলেন,দখলমুক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে এসব জলাশয় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জলাশয়গুলো মাছ চাষের কাজে ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হতে পারে।কার 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে