আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় সমর্থন পেতে ও নিজের প্রার্থিতা জানান দিতে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ৭ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করেছেন বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন মোল্লা। শোডাউন শেষে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বড়াইল ইউনিয়নের দক্ষিণ হাটশহর স্কুল মাঠ থেকে মোটরসাইকেল শোডাউনটি শুরু হয়। পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে শোডাউনটি আবার দক্ষিণ হাটশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতে ৭ শতাধিক মোটরসাইকেলে বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত চলে এ আয়োজন।
শোডাউন ঘিরে সকাল থেকেই দক্ষিণ হাটশহরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা জড়ো হতে থাকেন। এ সময় আলমগীর হোসেন মোল্লা তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।
পরে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রদক্ষিণ করেন তাঁরা। এ সময় আলমগীর হোসেন মোল্লার সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। শোডাউন শেষে দক্ষিণ হাটশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এ জন্য সকাল থেকেই রান্নার প্রস্তুতি শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ হাটশহর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বলাকা ক্লাবঘরের সামনে সকাল থেকেই ১০-১২ জন লোক রান্নার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ক্লাবঘরের ভেতরে রান্না করা পোলাও ১৭টি ডেক্সিতে রাখা হয়েছে। রান্না ও খাবার পরিবেশনের জন্যও বেশ কয়েকজনকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
রান্নার কাজে নিয়োজিত আকবর হোসেন বলেন, ‘সকাল ৬টার পর থেকেই তাঁরা রান্নার কাজ শুরু করেছেন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ১০ মণ চাল ও ১০০ কেজি খাসির মাংস দিয়ে পোলাও রান্না করা হয়েছে।’ শোডাউনে অংশ নেওয়া বড়াইল ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান বলেন, ‘বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হোসেন মোল্লা বিএনপির নিবেদিত প্রাণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা শোডাউনে অংশ নিয়েছি। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আয়োজক মো. আলমগীর হোসেন মোল্লা বলেন, চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিতেই এই আয়োজন করেছি। আমার ডাকে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোডাউনে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। জনগণের সহযোগিতা ও ভালোবাসাই আমার প্রধান শক্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন মোল্লা বড়াইল ইউনিয়নের দক্ষিণ হাটশহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। এর আগে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পোলট্রি ও কীটনাশক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আলমগীর হোসেন মোল্লা ইতিপূর্বে বড়াইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন। ওই ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আলমগীর হোসেনের নাম সাধারণ মানুষের মুখে বেশি শোনা যাচ্ছে। বড়াইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী আরও দুজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজ্জাকুল হায়দার ও বিএনপি নেতা মুরশিদুল ইসলাম মুরশিদ।