পাবনার চাটমোহরে এক দিনমজুরের মৃত্যুর ঘটনায় নিরীহ ব্যক্তিদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে ও নিরাপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহরের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেস গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের সজনাই গ্রামে এই প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,গত ২৯ আগস্ট সকালে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিবেশির সাথে বিরোধের জের ধরে মারধরের শিকার আব্দুল বারেক ওরফে বাকি নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নিহত বারেকের প্রতিবেশি রবি,তার স্ত্রী রেশমা ও ছেলে ওয়াসিম। অথচ একটি কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য গ্রামের বেশ কয়েকজন নিরীহ সাধারণ মানুষকে মামলার আসামি করেছে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। মামলার বাদী দলবল নিয়ে রাতের আঁধারে গ্রামের মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। মিথ্যে মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিরীহ মানুষ।।
ভুক্তভোগীদের দাবি,তারা ঘটনার সময় কেউ এলাকায় ছিলেন না,কেউ মাঠে কাজে ছিলেন। তারপরও তাদের হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। আর মামলা বাদি তিনি এলাকাতে ছিলেন না,ঢাকায় থাকেন। সেখান থেকে এসে মামলা করেছেন। বক্তারা মিথ্যে অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ প্রকৃত দোষিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। এসময় বক্তব্য দেন,কামরুল হাসান বর্ষষ,মানিক সরদার,আঃ আলীম,আঃ আজিজ,সাহেব আলী,খাদিজা পারভীন,শান্তা ভাতুন প্রমুখ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে,গত ২৯ আগস্ট সজনাই গ্রামের সোবাহান আলীর ছেলে আব্দুল বারেক ওরফে বাকি তার ছাগলকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করাতে নিয়ে গেলে প্রতিবেশী একই গ্রামের জাহের মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম রবি বাঁধা দেয়। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবি ও তার স্ত্রী বাকিকে মারধর করেন। বাঁশ ও কাঠের বাটাম দিয়ে বাকির মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল দশটায় মারা যান আব্দুল বারেক। এ ঘটনায় নিহত বারেকের চাচা ওয়াহাব প্রামাণিক বাদি হয়ে চাটামোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রবি ও তার স্ত্রী রেশমা সহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। ইতিমধ্যে মামলার প্রধান দুই আসামি রবি ও তার স্ত্রী রেশমাকে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মামলার বাদি ওয়াহাব প্রামাণিক বলেন,ওরা প্রতাপশালী লোক। ওরা বহুত লোককে মারছে। মতিন,জাকির ওরা মারার হুকুম দিছে। মারার হুকুম দিলে কি ওরা আসামি হয় না ? মারার হুকুম দিছে তার প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,যাদের বলছে তারাই আমাদের বলছে। হত্যার সাথে তারা জড়িত বিধায় মামলার আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে আপনি উপস্থিত ছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি ওইদিন এলাকায় ছিলেন না বলে স্বীকার করেন। এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি মোহাঃ অলিউর রহমান বলেন,ইতিমধ্যে মামলার প্রধান দুই আসামি রবি ও তার স্ত্রী রেশমাকে র্যাব গ্রেপ্তার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যাব। আমরা তাদের আদালতে সোপর্দ করেছি। আর মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা মিলবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু পুলিশ নিরীহ বা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়,এমন মানুষদের হয়রানী করবে না।