কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন কুষ্টিয়ার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। জেলা জুড়ে আমীর হামজা এমপির বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই ঘোষনা দেন।
১৩ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন সারের ডিলার নিয়োগের লক্ষ্যে কমিটি বর্হিভূত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মিটিং করেন। সেই মিটিং নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা সহ কুষ্টিয়া-২ ও কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর এমপিদের বাদ রাখা হয়। অন্য দিকে বিএনপি থেকে নির্বাচিত কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ওই মিটিং রাখা হয়। এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান মুফতি আমীর হামজা এমপি।
গত সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা নুরুজ্জামান অডিটোরিয়াম হলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা কথা বললেই সব সময় আমাদের বক্তব্যকে উল্টে বিপরীত দিক ধরা হয়। আমি ১লাখ ৮৩ হাজার ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু অনেক প্রোগামে আমাদের মাইনাস করে করা হয়। প্রতিটি ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কুষ্টিয়া প্রশাসন একটি মিটিং করেছেন যেখানে সরকারি দলের নেতারা ছিলেন। নির্বাচিত এমপিদের বাদ দিয়ে অনির্বাচিত মহিলা সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা স্যার নিয়োগ কমিটির উপদেষ্টা। তাদের বাদ দিয়ে কমিটি বহিভূত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসন মিটিং করেন, এটি দুঃখজনক। তারা বলেছেন, সরকারি দলের ছাড়া আর কাউকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া যাবেনা। তিনি বলেন, আমি জনগনের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য। অথচ আমাকে বাদ দিয়ে, একজন নারী সংসদ সদস্য, যিনি নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, তাকে নিয়ে প্রশাসন মিটিং করছে। তার সাথে আছে, যারা আমার কাছে বিশাল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন, তারাও। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
এরই প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া-২ ও ৩ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বিরদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার বিকালেই মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের করে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা। রাত ৮টার দিকে ভেড়ামারা শহরে ঝাড়ু মিছিল রের করেন তারা।
মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘উনি একজন সংসদ সদস্য এবং আমিও একজন সংসদ সদস্য। প্রত্যেকেরই মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে। একজন নারীকে সম্মান দিয়ে কথা বলা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ভদ্রতা ও আচরণের অংশ। কিন্তু তিনি তা করেন নি। তিনি আক্রমন করেছেন। দলের অনুমতি পেলে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলে তিনি জানান।