চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

লক্ষ্ণীপুরে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেপ্তার হয়নি বলে সদর থানার ওসি তদন্ত মো. শরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্ণীপুর পৌর শহরের উত্তর তেমুহনীসংলগ্ন কালী বাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে তিন ব্যবসায়ী আহত হন। তাঁদের লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত ধনু মিয়ার ছেলে। তাঁর সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই শাকিল ও ভাগিনা মুন্না ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেলোয়ার এর আগেও কালী বাজার এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। সেলুন ব্যবসায়ী জগদিশ বাবুর কাছে প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং মোবাইল সার্ভিস ব্যবসায়ী কৃষ্ণপালের কাছেও একই পরিমাণ চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও দোকানে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এ সময় কৃষ্ণপালকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করা হয়। দোকানের কর্মচারী সোহাগ বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর এবং পায়ে কামড় দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আশপাশের ব্যবসায়ীরা শাহেদকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে দেলোয়ার, শাকিল ও মুন্না দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এতে শাহেদ আলম, সোহাগ ও রাকিব আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দিন মো. দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগী একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। চাঁদার টাকা না পেয়ে দেলোয়ার দোকানে পেট্রল ছিটিয়ে দেন। এ সময় দোকানের পাশে থাকা এক ব্যক্তির শরীর ও মাথায়ও পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। ঘটনায় বাধা দিতে গেলে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়। পরে অন্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর কালী বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। লক্ষ্ণীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। ঘটনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সদর থানার ওসি তদন্ত মো. শরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আপনারা সবাই জানেন, এটি গণমাধ্যমেও এসেছে। একজন ব্যক্তি তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে দোকানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে দোকানে পেট্রল ছিটিয়েছেন এবং পাশে বসা একজনের মাথায়ও পেট্রল ছিটিয়েছেন। এটি জীবন বিধ্বংসী কাজ।

তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং মামলার কপি বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এটি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কাজ। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ করছি।

ওসি তদন্ত আরও বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, আসামিদের আইনের আওতায় এনে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। এদিকে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে