চাঁদপুরের নদীবেষ্টিত ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান দশা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এখানে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের চেয়েও যেন হাসপাতালটির নিজেরই এখন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসা বেশি প্রয়োজন! চিকিৎসা নিতে আসা মানুষগুলোর ভরসার এই শেষ ঠিকানাটি আজ নিজেই চরম সংকটে ধুঁকছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ২৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বাস্তবে লড়ছেন মাত্র ৯ জন চিকিৎসক। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৯৫ পদের মধ্যে ৫২টিই শূন্য। চিকিৎসকদের বসার মতো পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় একটি ছোট কক্ষে একাধিক চিকিৎসককে গাদাগাদি করে রোগী দেখতে হচ্ছে। শয্যাসংকটের কারণে বহু রোগীকে বাধ্য হয়ে ঠাঁই নিতে হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দায়।
সংকটের এখানেই শেষ নয়। জীবন বাঁচাতে জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় এক্স-রে মেশিন কিংবা একটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি)-কোনোটিরই অস্তিত্ব নেই হাসপাতালটিতে। একটু জটিল রোগী বা এক্স-রে করানোর প্রয়োজন হলেই তাকে পার হতে হয় নদী, যেতে হয় চাঁদপুর শহরে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, হাসপাতালে বিকল্প কোনো জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ঝুঁকিতে পড়ে জরুরি বিভাগ ও শিশু ওয়ার্ডের অক্সিজেন সরবরাহ। বর্তমানে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত আইপিএসের ভরসাতেই খুঁড়িয়ে চলছে কার্যক্রম।
এদিকে, ৫০ শয্যার নতুন চারতলা ভবনটির নির্মাণকাজ ২০১৯ সালে শুরু হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতায় ছয়বার সময় বাড়িয়েও তা শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত কেবল ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি আগস্ট মাসের শেষ দিকে হঠাৎ স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল হাইমচর উপজেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। নদী ও চরাঞ্চলের এ জনপদের মানুষের জীবন বাঁচাতে দ্রুত নতুন ভবনের কাজ শেষ করার পাশাপাশি শূন্য পদে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী স্থাপন এবং একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।