ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মোনায়েম হোসেনকে(৪৮)কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার ময়েনখালী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কালীশংকরপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর এই হামলা চালায়।নিহত মোনায়েম হোসেন ওই গ্রামের আবুল মন্ডলের ছেলে। ঘটনার পর রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া থেকে নিহতের মরদেহ বুধবার মধ্যরাতে হরিণাকুন্ডু থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের পেছনের নির্জন স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার একটি হাত শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পেটে ও শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া নেওয়া হলে সেখানে রাত সাড়ে দশটার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের সঙ্গে থাকা আবদালপুর গ্রামের শাহিন, মাসুম ও ফারুক হোসেন জানান, মোনায়েম মেম্বার বাজার থেকে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু মাঝপথে তাকে নির্মমভাবে কোপানো হয়। একটি ভিডিওতে তাদের বলতে শোনা যায়,সরকারী দলের লোকজন সরাসরি এই হত্যাকান্ডে জড়িত। তবে পুলিশ ধারণা করছে, এই ঘটনার পেছনে এলাকার নিষিদ্ধ বা সক্রিয় চরমপন্থী দলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।স্বামী হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নিহতের স্ত্রী শিল্পী খাতুন। আর্তনাদ করে তিনি বলেন, "আমার স্বামী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, পথে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো। আমি বিধবা হলাম, আমার সন্তানগুলো এতিম হয়ে গেল। আমি এই নৃশংস হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার চাই।"
হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খাঁন জানান, কুষ্টিয়া হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয় এবং আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।তবে এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত মামলা হয়নি।এদিকে আওয়ামীলীগ নেতা মোনায়েম মেম্বারের হত্যাকান্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভায়না, কালীশংকরপুর,পাখিমারা ও ময়েনখালী এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকা গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।