কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের পৃথক ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহারে আইন প্রণয়নসহ চার দফা দাবিতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর গণস্বাক্ষর সংবলিত এক স্মারকলিপি প্রদান করেছে আলেমরা। ৫ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদ চত্বরে আয়োজিত মহাসম্মেলন শেষে সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসহ স্মারকলিপিটি (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ-এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল এ স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতী ওমর আহমদ, ইমাম-উলামা পরিষদ কিশোরগঞ্জ সদরের সভাপতি মাওলানা আহমাদ উল্লাহ, জেলা প্রচার সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহীম,অর্থ সম্পাদক মাওলানা জিল্লুর রহমান। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও (এডিএম) এরশাদুল আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে খতমে নবুওয়তের মৌলিক আকীদার গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত। মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারীরা ইসলামের স্বতঃসিদ্ধ আকীদা অস্বীকার করায় বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তারা অমুসলিম। কিন্তু তারা মুসলিম পরিচয় বহন করায় সাধারণ মুসলমানরা ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা বিভ্রান্তি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো হলো-
১. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃথক ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহারে বাধ্য করতে আইন প্রণয়ন করা।
২. পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, নিকাহ্ রেজিস্ট্রি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি নথিতে তাদের পৃথক ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৩. ইসলামী পরিভাষা, প্রতীক ও মসজিদ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. ধর্মীয় পরিভাষা ও মুসলিম জনজীবনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সকল অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত ও হেফাজতে ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার অধ্যক্ষ এবং ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের মুতাওয়াল্লী মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ। স্মারকলিপি গ্রহণের পর জেলা প্রশাসন বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে প্রেরণের আশ্বাস প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।