নীলফামারীর সৈয়দপুরে হঠাৎ করেই বেড়েছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। চুরি,ছিনতাই, অচেতননাশক ওষুধ প্রয়োগ করে ছিনতাই,অটো-রিকশা ও ইজিবাইক চুরি, মাদক সেবন ও কেনাবেচাসহ নানা অপরাধে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহর থেকে গ্রাম উপজেলার পৌরসভাসহ ছয় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে অটো-রিকশা, রিকশা ও ইজিবাইক চুরির ঘটনা নিয়ে চালক ও মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অপরদিকে অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশলে পথচারীদের টার্গেট করছে। অচেতননাশক ওষুধ সেবন করিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশও মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ বাড়ছে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়রা বলছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝে মধ্যে মাদক উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হলেও কিছুদিন পর আবার একই তৎপরতা শুরু হয়। ফলে স্থায়ীভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুধু পৌর এলাকাই নয়, উপজেলার ছয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও মাদকের বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকায় হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায় এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তরুণদের একটি অংশ চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সচেতন নাগরিকদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। মাদক ব্যবসার মূলহোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, মাদক প্রবেশের পথ বন্ধ করা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এিদিকে অটো-রিকশা, রিকশা ও ইজিবাইক চালকদের অভিযোগ, যানবাহন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক সময় রাতের বেলায় নির্দিষ্ট এলাকায় যাত্রী বা অপরিচিত ব্যক্তির ছদ্মবেশে অপরাধীরা চালকদের টার্গেট করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সৈয়দপুরবাসীর প্রশ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক শহরে হঠাৎ করে কেন অপরাধ বাড়ছে। মাদক ব্যবসার নেপথ্যে কারা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে কারা রয়েছে এ প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় কেউ মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সৈয়দপুরের সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ সৈয়দপুর গড়ে তোলা হবে।