জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়ে লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মওকুফের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত জানায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
দণ্ড মওকুফ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কর বিভাগের পাশাপাশি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে উপকর কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, কমিশনারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
দণ্ড মওকুফ হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, উপকর কমিশনার, কর অঞ্চল-২১, ঢাকা; মির্জা আশিক রানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার, কর অঞ্চল-দিনাজপুর; মোনালিসা শাহরীন সুমিতা, যুগ্ম কর কমিশনার, কর অঞ্চল-ময়মনসিংহ; মো. মামুন মিয়া, যুগ্ম কর কমিশনার, কর অঞ্চল-যশোর; চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব), কর অঞ্চল-গাজীপুর; সুলতানা হাবীব, অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব), কর অঞ্চল-১২, ঢাকা; মুরাদ আহমেদ, অতিরিক্ত কর কমিশনার, কর অঞ্চল-যশোর; মামুনা খাতুন, যুগ্ম কর কমিশনার, ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, ঢাকা; মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন খান, যুগ্ম কর কমিশনার, কর অঞ্চল-ফরিদপুর এবং মো. জিল্লুর রহমান।
এ ছাড়া রয়েছেন মো. শাহাদাত জামিল; শফিউল বশর, রাজস্ব কর্মকর্তা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, নারায়ণগঞ্জ; সবুজ মিয়া, রাজস্ব কর্মকর্তা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা উত্তর; মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, উপকমিশনার, কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, খুলনা; মো. জাকির হোসেন, কমিশনার (চলতি দায়িত্ব), কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রাম; মো. সানোয়ারুল কবির, যুগ্ম কমিশনার, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রাম; সাধন কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, গাজীপুর; আ.আ.ম. আমীমুল ইহসান খান, অতিরিক্ত কমিশনার, কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম; সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা এবং হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদান, অতিরিক্ত কমিশনার, নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা।
২০২৫ সালে এনবিআর সংস্কারের দাবিতে কর্মকর্তাদের ওই আন্দোলন শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনের কারণে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় কর্মকর্তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলন প্রত্যাহারের পর সরাসরি সম্পৃক্ত ৩৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয় আইআরডি। তাদের মধ্যে এনবিআরের তিন সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় লঘুদণ্ড পাওয়া ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার তাদের বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।