প্রতারণার মামলায় হাইকোর্টে বিদিশার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
প্রতারণার মামলায় হাইকোর্টে বিদিশার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
ছবি: সংগ্রহীত

প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিকুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বিদিশার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

আদালতে বিদিশার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফজলুর রহমান খান ও মাসুদ মিয়া। তারা আদালতে তার জামিনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মহানগর হাকিম জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে পলাতক দেখিয়ে আদালত সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরে প্রায় তিন মাস পর ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ আগস্ট তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার আইনজীবীরা আপিল করার শর্তে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর বিদিশার জামিনের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হয়। ২ সেপ্টেম্বর বিচারক শাহজাহান কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার আপিল গ্রহণ করা হয়। ওই আদেশের পর বিদিশার আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ জানিয়েছিলেন, তারা উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করবেন।

শেষ পর্যন্ত রোববার হাইকোর্টে সেই জামিনের আবেদন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বিদিশার জামিন মঞ্জুর করেন।

যেভাবে মামলার সূত্রপাত
বিদিশার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার। মামলাটি করা হয় ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। বাদী মোশাররফ মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে ঢাকার বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ থেকে বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোশাররফ। ওই বছরের ১ জুলাই বিদিশা তাকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে একটি চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ১০ জুলাই ২০০১ বিদিশা মোশাররফকে বনানীর রাজনীগন্ধা কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে তাকে বিদিশার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আবদুর রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়। এ সময় বায়নানামাও সম্পাদন করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজউকের অনুমোদন পাওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করা হলে ফ্ল্যাটটি মোশাররফের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও বাদীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও ফ্ল্যাটটি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

এরপর টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন মোশাররফ। একপর্যায়ে তাকে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, বিদিশা মোশাররফকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

দীর্ঘদিন চলা এই মামলায় শেষ পর্যন্ত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। সেই রায়ের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন তিনি। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর তার মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে