চিতলমারীতে জোয়ারের পানিতে গ্রাম রক্ষা ভেড়িবাঁধ হুমকির মুখে

এফএনএস (মোঃ একরামুল হক মুন্সী; চিতলমারী, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
চিতলমারীতে জোয়ারের পানিতে গ্রাম রক্ষা ভেড়িবাঁধ হুমকির মুখে

সমুদ্র উপকূলবর্তী বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রানদী সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে গ্রাম রক্ষা বাঁধ এখন হুমকির মুখে। গত কয়েকদিনের বিরামহীন বৃষ্টি ও নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চিংড়ি চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বিষয়টি তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।  

স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চিতলমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী চিত্রা নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের  ভেড়ি বাঁধসহ প্রায় ৫ কিলোমিটার  নদী তীরবর্তী  গ্রাম রক্ষা বাঁধ এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চিত্রা পাড়ের মিনি সুন্দরবনসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নদী পাড়ের গ্রাম সুরিগাতী, রায়গ্রাম, খিলিগাতী  ডুমুরিয়া , পার ডুমুরিয়া,ঝালডাঙ্গা, আরুলিয়া,খড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   

ডুমুরিয়া স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ রানা জানান, এক সময় প্রতি বছর  জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত  জোয়ার ভাটার পানির চাপে এলাকা তলিয়ে যেত। সেটি রোধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর পাশ দিয়ে  গ্রাম রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করেছে। এ বছর পানির চাপ বেশি হওয়ার কারণে ঝালোডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম, আরুলিয়া স্লুইস গেট সংলগ্ন  গোদাড়া মিনি সুন্দরবনের ইকোপার্ক সহ বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের উপর থেকে পানি উপচে পড়ছে। বেড়িবাঁধটি কোন ভাবে ভেঙে পড়লে এলাকা প্লাবিত হবার আশঙ্কা রয়েছে। 

খিলিগাতী প্রমের বাসিন্দা সাবেক প্রভাযক, মুকুলেশ ঢালী জানান,নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া ও নদী শাসনের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুল ভেড়িবাঁধ গোদাড়া পার্কের বাঁধসহ গ্রাম রক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান এখন ঝুঁকিপুর্ণ। গ্রাম গুলোর উত্তর পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুল রাস্তা বয়ে গেছে। যেটা এখন এলজিডি পাকা করণ করেছে। দক্ষিণ পাশে চিত্রা নদীর গ্রাম রক্ষা বাধ। মাঝখানে ১২ টি গ্রামে পায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করছে। দ্রুততম সময়ে গ্রাম রক্ষাবাঁধে সংস্কার না করলে  আগামী অমাবস্যায় জোয়ারের  পানিতে প্লাবিত হতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।  

এলাকার মৎস্য চাষী আফতাব শেখ, প্রকাশ রায়সহ অনেকে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের  গোদাড়া পার্ক ও খড়িয়া স্কুলের পাশের রাস্তা এবং ঝালোডাঙ্গা গুচ্ছগ্রামের পাশের রাস্তাসহ  ভেড়ি বাঁধ ও গ্রাম রক্ষা বাধের  বেশ কযেকটি স্থান দিয়ে পানি উপচে পড়ে বিলে প্রবেশ করেছে। এতে হাজার হাজার মৎস্য চাষির মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এলাকার হাজার হাজার চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । এ ব্যাপারে সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ নিজাম উদ্দিন জানান , প্রতিবছরই গ্রাম রক্ষা বাঁধে  পানি উন্নয়ন বোর্ড  মেরামতের কাজ করে থাকে। এ বছর পানির চাপ বেশি হওয়ার কারণে  অনেক জায়গা দিয়ে পানি  উপচে পড়ছে। বেশ কিছু জায়গা ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুততম সময়ে  মূল ভেড়িবাঁধ ও গ্রাম রক্ষা বাঁধে কাজ করা দরকার। আগামী অমাবস্যায়  পানির চাপ বেশি হতে পারে বলেও অভিমত দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, ঘটনাস্থল তিনি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান,  দ্রুততম সময়ে তারা সরোজমিনে ঘুরে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে