প্রতাপনগরে ওয়াপদার বাঁধে অবৈধ পাইপ অপসারণের নোটিশ পেয়েও অগ্রাহ্য

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
প্রতাপনগরে ওয়াপদার বাঁধে অবৈধ পাইপ অপসারণের নোটিশ পেয়েও অগ্রাহ্য

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ী বাঁধ কেটে অবৈধ ভাবে পাইপ বসিয়ে লবণ পানি উঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ পাইপ দু'দিনের মধ্যে অপসারণে পাউবো'র নোটিশ পেয়েও সাবেক ইউপি মেম্বার আসলাম হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে নির্দেশ অমান্যের অগ পাওয়া গেছে। 

এলাকাবাসী জানান, প্রতাপনগরের ১নং ওয়ার্ড চাকলা পশ্চিম পাড়া পুরাতন ক্লোজার এর খাসখালে লবণ পানির মৎস্য ঘের আছে। সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি খাস খালে একটি গেট আছে। এই খালে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঁধ/পাটা বসিয়ে লবণ পানির ঘের করায় কৃষকদের ধান চাষে ক্ষতি হচ্ছে। পানি নিস্কাশনে বাধাগ্রস্ত হয়ে লবণ পানি আরো ভিতরে প্রবেশ করছে। ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমল থেকে তারা ঐ খালে জোর পূর্বক ঘের করে আসছে। সেখানে আউটড্রেন দেওয়ার কথা থাকলেও তারা কোন আউট ড্রেন দেইনি, ফালে ধান চাষ এর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। 

২নং ওয়ার্ডবাসী বাধ্য হয়ে সোহরাব সানার বাড়ির পাশে ছোট গেট আছে, সেখানে পাইপ বসিয়ে পানি নিস্কাশনের সাময়িক ব্যবস্থা নিয়েছে। তেলিখালী মৌজায় একটি গেট আছে, যেটি এলাকার একমাত্র গেট। যেটি এলাকার পয়ঃ নিস্কাশনে যথেষ্ট নয়। এজন্য সোহরাব সানার বাড়ীর পাশে গেটের কাছে স্লুইচ গেট স্থাপনের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়ে আসছে। এছাড়া ওয়াপদার রাস্তার বাইরে প্রায় ১০০ পরিবার বসবাস করে। তারা বছরে দুই/তিনবার পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের করুন পরিণতি থেকে রক্ষা করতে উত্তরণ সংস্থা তাদের পাশে এসে দাড়ায়। তারা নদীর পাশে মৎস্য ঘেরের বাঁধের উপর দিয়ে ২৫ ফিট প্রস্ত, ৪ ফিট উচু প্রটেকশান বাঁধ করে দিয়েছে। ফলে পরিবারগুলো এখন শান্তিতে বসবাসের সুযোগ পেয়েছে। সাবেক মেম্বার আসলাম হোসেন গাজী সেই রাস্তা কেটে পাইপ বসিয়ে লবণ পানি উঠাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, এই পানি ওয়াপদার ভিতরে তার মৎস্য ঘেরে নিতে সকল নিয়মকে অবমাননা করে পাউবোর বাঁধ কেটে অবৈধ ভাবে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ ফিট মাটির নিচে পাইপ বসিয়ে লবণ পানি উঠাচ্ছে। এই লবণ পানির কারণে পার্শবর্তী জমিতে ধান চাষ অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে কৃষকরা ধান লাগিয়েছে, লবণ পানির কারণে অনেকের ধান গাছ মারা গেছে। এলাকার মানুষ প্রতিকারের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছেন। কিন্তু তার অবৈধ কর্মের কোন প্রতিকার পায়নি। অবশেষে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ ২ এর আওতাভুক্ত ৭/১ পোল্ডারে চাকলায় ভেড়ী বাঁধ কেটে আসলাম হোসেন গাজী অবৈধ ভাবে পাইপ বসিয়ে ভিতরে লবণ পানি উঠিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা আলমগীর কবির ২৭/৮/২৬ তাং এল ৬/৬০ নং স্বারকে নোটিশ প্রাপ্তির ২ দিনের মধ্যে সেখান থেকে পাইপ অপসারনের জন্য নোটিশ প্রদান করেন। গত ২৯ আগস্ট নোটিশ গ্রহন করলেও নির্দেশনা পালন করা হয়নি বলে এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে। 

এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরজমিনে গিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে এলাকার শত শত বিঘা জমিতে ধান চাষ উপযোগি ব্যবস্থা নিবেন। সাথে সাথে সহকারী কমিশরার (ভূমি) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে এলাকাবাসী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে