নওগাঁর মান্দায় এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান পিস্তল, একটি খেলনা পিস্তল, ডেগারসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার যুবকেরা হলেন মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নের তুড়ুকবাড়িয়া গ্রামের আহম্মেদ আলী আকন্দের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৪) ও জিয়াউর রহমানের ছেলে পারভেজ হোসেন (২৭)।
পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ফুড ভিলেজ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একতা পরিবহনের একটি বাস থেকে সুলতান মাহমুদ ও পারভেজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই বাসে করে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছিলেন। ওই গ্যাংয়ের মাধ্যমে তাঁরা এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। গ্যাংয়ে যোগ না দেওয়া কিশোরদের মারধর ও নির্যাতন করা হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে তুড়ুকবাড়িয়া গ্রামের সাফি আল জাবের ওরফে নিরব (৩১) পলাশবাড়ি বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সুলতান মাহমুদ, পারভেজ হোসেন ও ফয়সাল মাহমুদ রোকনের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তাঁর পথরোধ করেন। তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নিরবকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি আহত হননি।
পুলিশ আরও জানায়, পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও ওই যুবকেরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট সাফি আল জাবের ওরফে নিরব বাদী হয়ে সুলতান মাহমুদ, পারভেজ হোসেন ও ফয়সাল মাহমুদ রোকনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মান্দা থানায় মামলা করেন। মামলার পর মান্দা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে শেরপুরের ফুড ভিলেজ এলাকা থেকে সুলতান মাহমুদ ও পারভেজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, সুলতান মাহমুদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি ওয়ান শুটার গান পিস্তল, ডেগারসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।