বরিশালের উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় উঠলেও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ রয়েছেন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যেকারণে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফ্যাসিস্টের দোসর ওই প্রকৌশলী। ইতোমধ্যে তিনি (প্রকৌশলী) দম্ভ করেও বলেছেন সব কিছু তিনি ম্যানেজ করেই করছেন।
সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিশ্চুপ থাকা ও প্রকৌশলী সুব্রতর বেপরোয়া কর্মকান্ডের কারণে সেই দাম্ভিকতাই কি তাহলে সত্যিকারে পরিনত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই কি প্রকৌশলী সুব্রত ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও উপজেলাবাসীর সাথে খামখেয়ালীপনায় মেতে উঠেছেন। টাকার কাছে সত্যিকার অর্থে কি সবাই ম্যানেজ হয়ে গেছেন। যেকারণে এখনও উজিরপুরে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। এমনই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন উপজেলাবাসীর মধ্যে। সর্বশেষ ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই অসহায় পরিবারের পৈত্রিক জমি দখল চেষ্টার অভিযোগের পর এবার পারিবারিক কবরস্থান উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়। কবরস্থান সরিয়ে না নিলে তা গুঁড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, ধামুরা-শোলক সড়কের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করেছেন জমির মালিকরা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পুরুষের কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভূক্তভোগীদের ওপর চাপ প্রয়োগসহ হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগী আব্দুর রব ও মাসুমসহ একাধিক জমির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, জমি অধিগ্রহণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দিয়েই তাদের পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ২৮ আগস্ট ধামুরা এলাকার বাসিন্দা এনায়েত শরীফসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বরাত দিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেছেন। একইসাথে পারিবারিক কবরস্থান সরিয়ে নেয়ার জন্য বলে গেছেন। প্রকৌশলীর এ নির্দেশ জারির পাশাপাশি উল্লেখিত ব্যক্তিরা কবরস্থান সরিয়ে না নিলে তা উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন।
ভূক্তভোগীরা বলেন, বাবা-মায়ের কবর সরিয়ে আমরা কোনো উন্নয়ন চাই না। জমি প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে কবরস্থান সরিয়ে নেয়ার কোন প্রশ্নই উঠেনা। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই কবরস্থানে তাদের বাবা-মা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে তারা কবরস্থানটি সংরক্ষণ করে আসছেন। হঠাৎ করে কবরস্থান সরিয়ে নেয়ার নির্দেশে পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের মধ্যে রয়েছে। তারা বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের এ নির্দেশ না মানলে কবরস্থান গুঁড়িয়ে দেয়া হবে বলে প্রকৌশলীর পক্ষে এনায়েত গংরা হুমকি দিয়ে গেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, ধামুরা-শোলক সড়কে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর কাজ দেড় বছর আগে শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখনো কার্যত অকেজো। সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। জমির মালিকদের অভিযোগ, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তাদের জমি ব্যবহারের চেষ্টা করছেন প্রকৌশলী সুব্রত রায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও জমির মালিকরা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে জমির মালিকানা, প্রকল্পের নকশা ও জমি অধিগ্রহণের কাগজপত্র যাচাই করে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।