রুমিনের প্রশ্নে মক্কা প্যাক্ট নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
রুমিনের প্রশ্নে মক্কা প্যাক্ট নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করা হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার। তবে বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে নেওয়ার বিষয়টি এখনো সদস্য দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

রুমিন ফারহানা জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশের কী সুবিধা হবে এবং বাংলাদেশ এই চুক্তি থেকে কী পেতে পারে।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মক্কা প্যাক্টটি তিন দেশের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তবে এতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আসেনি। কারণ, বিষয়টি চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

খলিলুর রহমান বলেন, "তারা যদি বাংলাদেশকে এ প্যাক্টে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।"

তিনি আরও বলেন, সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করার আগে চুক্তিটির ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি। সরকার বিষয়টির সব দিক বিবেচনায় রাখবে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মক্কা প্যাক্টের সম্ভাব্য বিস্তারের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, চুক্তিটি যদি বিস্তৃত হয়, তাহলে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, "এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে কারও, অন্যান্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই।"

রুমিন ফারহানা তাঁর প্রশ্নের শুরুতে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহজে পাওয়া যায় না। তাই তাঁর প্রশ্নটি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মূল প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তিনি বিষয়টি জানতে চান।

স্পিকার জানান, প্রশ্নটি মূল প্রশ্নের সঙ্গে পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট নয়। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলে এর উত্তর দিতে পারেন অথবা এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার কথা বলতে পারেন। এরপরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নটির উত্তর দেন।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন। মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কায় চুক্তিটি হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পারিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। মক্কা প্যাক্টকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের মত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এতে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার গত ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে