উন্নয়নকাজের অনিয়মের সমালোচনার মুখে থাকা বরিশালের উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়কে ঘিরে এবার উঠেছে আরও গুরুত্বর অভিযোগ। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন ‘প্রয়োজনে লাশ পড়বে, তবু চেয়ার ছাড়ব না’।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে তিনি (প্রকৌশলী) ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় সাংবাদিক বশির হোসেন খানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানার জন্য সুব্রত রায়কে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর উত্তেজিত হয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশ করে আমার কিছুই করতে পারবি না। আগে আওয়ামী লীগকে ম্যানেজ করে চলেছি, এখন বিএনপিও আমার ম্যানেজে।
দাম্ভিকতার সাথে তিনি বলেন, টাকা দিয়ে এই চেয়ার কিনেছি। এখান থেকে আমাকে সরানো যাবে না। আমার সাথে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর সুসম্পর্ক রয়েছে এবং আমি সকল কাজ তার পরামর্শেই করি। বড়স্যার দের আশির্বাদ নিয়েই এখানে আছি। তাই চাইলেও আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। যতো পারেন লেখেন। আপনাকে মামলা দিয়ে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো। আমি সুব্রত রায় ঠুনকো না। আমার মাথার উপরে আশীর্বাদের হাত আছে। তাই কিছুই ভয় পাই না। স্থানীয় সাংবাদিকও আমার হাতের মুঠোই। প্রকৌশলী সুব্রতকে ঘিরে এসব অভিযোগের মধ্যেই গত সোমবার প্রকৌশলী সুব্রত রায় ও তিন সাংবাদিকের কথিত গোপন বৈঠকের ঘটনা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, উজিরপুরে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক এমপি শাহ আলমের হাত ধরেই উজিরপুরে যোগদান করেন। তারপর থেকে তিনি ঠিকাদারদের জিম্মি করে ‘পার্সেন্টেজ’ নিয়ে তৎকালীন সাবেক এমপির সাথে ভাগ বাটোয়ারা করতেন। গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন প্রজেক্টের অর্থ হরিলুটের মাস্টারমাইন্ড তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির আওতায় সড়ক, কালভার্ট, সেতু, ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে তিনি নানাভাবে অর্থ লোপাট করেন। এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ রাজু আহমেদ শাহ বলেন, সাংবাদিক হচ্ছে জাতির বিবেক, সাংবাদিক যদি সাংবাদিকতা না করে তাহলে দেশ ও জাতি চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষভাবে, কারণ সাংবাদিকদের লিখনির মাধ্যমে এই দেশ ও জাতির শত্রুদের মুখোশ উন্মোচিত হয়। তাই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা দেখলে দুর্নীতিবাজরা মারমুখি হয়ে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের চেষ্টা করে।