রাজশাহীর তানোরে এক স্কুল ছাত্রী কিশোরী (১৪) কে ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনায় মুন্ডমালা পৌর সভার ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসারের নেতৃত্বে গ্রাম্য শালিসে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মুন্ডমালা পৌর এলাকার প্রকাশনগর গুচ্ছো গ্রামে। শালিসের ২২ দিন পর গত রোববার মালিসের রায়ের জরিমানার টাকা আদায় করা হয়। তবে, গত সোমবার পর্যন্ত ওই টাকা শালিসের মাতব্বরদের কাছেই জমা ছিলো। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও সালিশে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই মুন্ডমালা পৌর সভার ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার প্রকাশ নগর গুচ্ছো গ্রামের জৈনক ব্যক্তির পুত্র মনিরুল ইসলাম (৫৫) একই গ্রামের জৈনক ব্যক্তির স্কুল পড়ুয়া কন্যা (১৪) কে তার বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষনের চেষ্টার সময় প্রতিবেশীরা দেখে ফেললে মনিরুল পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাটি গ্রামবাসীর মধ্যে জনাজানি হয়ে পড়লে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পর দিন সন্ধ্যায় গুচ্ছো গ্রামের ফুটবল মাঠে শত শত লোকের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকে ধর্ষনের চেষ্টাকারী মনিরুলকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গত রোববার ২০ হাজার টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভিক্টিমের মা বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কাউন্সিলর অভিযোগ করতে দেননি আপোষ করে দিয়েছেন। জরিমানার টাকা এখনো পাইনি বলেও জানান তিনি। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম, কিন্তু এমন ঘটনা আমি ঘটায়নি। হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রামের ফুটবল মাঠে শালিসে বিচার বসিয়ে আমাকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা রোববার দুপুরে কাউন্সিলর আবুল বাসারের কাছে জমা দিয়ে স্ট্যাম্প করে নিয়েছি বলেও জানান তিনি।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেস্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ নয়, তাই এ ঘটনা আপোষেরও কোনো সুযোগ নাই। এনিয়ে এলাকা বাসির মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। উঠেছে সমালোচনার ঝড় বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন। স্থানীয়রা ঘটনার অধিকতর তদন্ত ও আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সালিশ বৈঠকের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল বাসার বলেন, গ্রামের বেলাল উদ্দিন, রাশেল ও রোকনসহ পুরো গ্রামবাসি মিলে বিচার করা হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টা আপোষ যোগ্য অপরাধ নয়, আপনি বিচার করলেন কিভাবে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাদি থানায় অভিযোগ করবে না, তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচার করা হয়েছে এতে সমস্যা কি? উল্টো প্রশ্ন করেন তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, কয়েকদিন হলো আমি তানোর থানায় যোগদান করেছি,, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান নবাগত ওসি।