গরমের পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাওর এলাকায় লোড শেডিং। আর এই গরমে ও লোড শেডিং এর কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দিনে-রাতে মিলে হাওড় এলাকার নিকলীসহ পাশপাশি সবকটি উপজেলায় আরইবির লোড শেডিং গড়ে ১০-১২ ঘন্টা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যেখানে সরকার বলছে শতভাগ বিদ্যুৎ পেতে হলে ১ বছরও সময় লেগে যেতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। এই হাসপাতালে যেখানে ডাক্তার থাকার কথা ১৭ জন সেখানে আছে মাত্র ৫-৬ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্টসহ তিনটি শূণ্য পদ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। মেডিসিন, অর্থপেডিক্স, গাইনি বিভাগের ডাক্তার নেই বছরের পর বছর ধরে। ঔষধ সংকট রয়েছে তীব্রতম। প্যারাসিটামল ছাড়া আর কিছু ঔষধ এই হাসপাতালে পাওয়া যায় না বলে রোগীদের অভিযোগ। রোগীদের খাবারের মান খুব একটা ভালো নয়। গতকাল শনিবার বিকেলে একদল গণমাধ্যম কর্মী গেলে দেখা যায়, ৫০ জন রোগীর মধ্যে ১৭ জন শিশু রোগী রয়েছে। প্রায়ই শিশু রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই হাওড়ের গরিব লোকের সংখ্যা অর্ধেক ও বেশী যারা অর্থ খরচ করে চিকিৎসা নিতে পারে না। তখনই সরকারি হাসপাতালে এসে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা ভর্তি হয়। এদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট জনিত শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা একটু সেবার জন্য এই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কোনো রকম ভাবে ভালো হয়ে যান। শিশু রোগীদের মধ্যে হুমাইরা (০৪ মাস) আর সাফায়েত (০৪ বছর ০২ মাস) তাদের অনেকের বাড়ী শিংপুর ও জারইতলা ইউনিয়নে। শিশুদের জন্য আলাদা একটি নতুনভাবে ভবন করা হয়েছে যেখানে পরিচ্ছন্নভাবে শিশু রোগী যাতে ভালো চিকিৎসা পায়। সেখানে ঔষধ কিছুটা সংকট রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আজ রবিবার নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: সজিব ঘোষ এই প্রতিবেদককে বলেন, মেডিসিন, অর্থপেডিক্স, গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট বা (ডাক্তার) নেই দীর্ঘদিন ধরে। যদি ডাক্তার থাকতো এই হাওড় এলাকার গরিব মানুষকে আরও ভালোভাবে সেবা প্রদান করা যেত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অন্য জায়গা থেকে নার্স এনে তাদেরকে কোনোরকম ভাবে রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য সবসময় আগুয়ান থাকেন বলে তিনি দাবি করেন।