কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উঠতি আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমনে কৃষক দিশাহারা হয়ে পড়েছে। এবারে চিলমারী উপজেলায় ৮,২২৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বেলেরভিটা, ছড়ার পাড়, সোনারী পাড়া, হাতিচামটার পাড়, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নৃশিংভাঁজ, কাঁচকোল, চাচলার বিল, কয়ার পাড়, রমনা ইউনিয়নের উত্তর রমনা, খরখরিয়া, পাত্রখাতা এলাকায় কারেন্ট পোকার ব্যাপক আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে করে অনেক কৃষকই পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আধাপাকা ধান কাটতেছেন। গাবেরতল এলাকার কৃষক সাজু মিয়ার জমিতে ব্যাপক হারে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় তিনি আধাপাকা ধান কাটছেন, এতে করে ফলন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই আধাপাকা ধানের ক্ষেতে ঔষধ প্রয়োগ করছেন। তাতে কোনো প্রকার কাজে আসছে না। সোনারীপাড়া এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের চলতি আমন মৌসুমে ধার-দেনা করে ৪ বিঘা জমিতে আমন ক্ষেতের চাষ করি। এর মধ্যে ২ বিঘা জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় আমন খেত নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি এবং ধান পুরোপুরি না পাকায় ধানও কাটতে পারছিনা। ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কায় আছি। রমনা ইউনিয়নের পাত্রখাতা এলাকার কৃষক আবু বক্কর বলেন, এবারের ২ বিঘা জমিতে আমন ক্ষেতের চাষ করেছি। কারেন্ট পোকার আক্রমনে ধানের গাছের রস চুষে খাওয়াতে গাছগুলো আগুনে পুড়ে যাওয়ার মতো হয়ে মরে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ক্লেনাম নামক কীটনাশক প্রয়োগে করেও কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, এবারের আমন মৌসুমে ৮,২২৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জিতও হয়েছে। সম্প্রতি কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় কৃষকদের কে ক্লেনাম ও স্পিলিন্ডর জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ জাতীয় ঔষধ প্রয়োগে ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।