দাম বৃদ্ধিতে সৈয়দপুরে কমেছে এলপি গ্যাসের ব্যবহার

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
দাম বৃদ্ধিতে সৈয়দপুরে কমেছে এলপি গ্যাসের ব্যবহার

দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে নীলফামারীতে কমতে শুরু করেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের ব্যবহার। বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে না পেরে অনেক গ্রাহক রান্নার কাজে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে আবারও ফিরে যাচ্ছেন খড়ির চুলায়। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন বাজারে এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় সিলিন্ডার মজুত রেখেও গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছেন না। ক্রেতারা দোকানে গিয়ে গ্যাস চাইলে সরবরাহ নেই বলে জানানো হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের গুদামে সিলিন্ডার মজুত রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রাহকদের দাবি, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির কৌশল নিয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক গ্রাহক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন। আবার অতিরিক্ত দাম বহন করতে না পেরে অনেকে গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন।

নীলফামারীর বাজারে বসুন্ধরা, সিনা, যমুনা, লাভ, ওমেরা,ফ্রেস,বেক্সিমকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যায়। তবে কোম্পানিভেদে সিলিন্ডারের দামে রয়েছে ভিন্নতা। দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এদিকে গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও অনেকেই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে বাজারে প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ সংকট রয়েছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে সংকট নিরসন ও অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে কোনো কোনো ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, অভিযানের পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হলেও দু-এক দিনের মধ্যে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায় বাজার।

সাধারণ গ্রাহকদের প্রশ্ন, বাজারে এলপি গ্যাসের প্রকৃত সংকট থাকলে তার কারণ কী, আর পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? তাঁদের দাবি, এলপি গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চান তাঁরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে