পর্দায় ফিরছে ‘ফেউ’

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
পর্দায় ফিরছে ‘ফেউ’

১৯৭৯ সালে সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। সরকারি হিসাবে তাতে প্রাণহানির সংখ্যা মাত্র দুই হলেও বিভিন্ন বেসরকারি নথি অনুযায়ী ওই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। সেই গণহত্যার ইতিহাস নিয়ে নির্মিত সিরিজ ‘ফেউ’। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চরকিতে আসে সিরিজটি। সুকর্ণ শাহেদ ধীমানের এই সিরিজ দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর ফিরছে ‘ফেউ’। এবার প্রেক্ষাপটের পুরো অংশ দেখা যাবে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’। আগামী বুধবার চরকিতে মুক্তি পাবে এটি। এ উপলক্ষ্যে এসেছে সিরিজের টিজার। এবারও চমক জাগানিয়া দৃশ্যায়ন ও গল্পের জটিল বুননের ইঙ্গিত মিলছে। গল্পটি মূলত বাংলাদেশিদের বীরত্বগাথা। যেখানে সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে রহস্য পুরুষ মার্শাল। অন্যদিকে তরুণ ড্যানিয়েল ভিনদেশি এজেন্টদের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সুন্দরবনের গহীনে পেঁচানো সাপের মতো সেই দুনিয়ায় এক মহাকাব্যিক জগতে চিত্রায়িত হয়েছে পুরো সিরিজ। সত্যের অনুপ্রেরণায় ফিকশনাল এ গল্প লিখেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও রোমেল রহমান এবং চিত্রনাট্য করেছেন সুকর্ণ শাহেদ ধীমান ও সিদ্দিক আহমেদ। প্রথম সিজন শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিলÑসুনীল আদৌ বেঁচে আছে নাকি রাজনৈতিক চক্রান্তের স্বীকার হয়ে মারা গেছে? একই সঙ্গে সুন্দরবনের মৌয়াল থেকে জলদস্যু বাহিনীর সর্দারে পরিণত হওয়া মার্শাল (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান) কি পারবে অধিকার আদায় করতে? ‘ডুমুরঝাপি’র মানুষগুলো কি আশ্রয় পাবে? ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’তে এগুলোর উত্তর ছাড়াও একটি নির্দিষ্ট জনপদের ভূরাজনীতির নানা বিষয় পরিষ্কার হতে পারে বলে জানান সিরিজটির নির্মাতা সুকর্ণ শাহেদ ধীমান। নির্মাতা বলেন, “প্রথম সিজনে আমড়া গল্পটির ভিত্তি ও ইতিহাস খুব বিশদভাবে তৈরি করেছিলাম। এবার গল্পটি একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পাচ্ছে। ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’ দেখলে দর্শক পুরো গল্পটি একেবারে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন। এমনকি যারা প্রথম সিজনটি দেখেননি, তারাও এটি দেখলে কোনো অসম্পূর্ণতা বোধ করবেন না। বলতে গেলে, আলাদা করে প্রথম সিজন বলে আর কিছু থাকছে না; ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’-ই ফেউয়ের আসল ও পূর্ণাঙ্গ গল্প।” ‘ফেউ কমপ্লিট সাগা’-তে মূল আকর্ষণ থাকছে সুনীল ও মার্শাল চরিত্রটির পরিণতি। চরিত্র দুটিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। চরিত্রটি নিয়ে নূর ইমরান বলেন, ‘মার্শাল চরিত্রটি একজন প্রকৃত সংগ্রামীর প্রতিচ্ছবি। তার লুক, পোশাক, শারীরিক ভাষা ও আচরণে দারুণ একটি গভীরতা রয়েছে। পুরো কাজটির অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। অবশেষে দর্শক পুরো গল্পটা দেখতে পাবেন এবং এটি দেখার পর তারা আসল রোমাঞ্চটা উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করছি।’ সিরিজটিতে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, তানভীর অপূর্ব, হোসাইন জীবন, রিজভী রিজু, ফাদার জোয়া, বাবলু বোস, এ কে আজাদ সেতু, প্রমুখ। এছাড়াও আছেন খুলনা, বাগেরহাট ও বটিয়াঘাটার শতাধিক শিল্পী।