রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ জেলায় সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী জেলায়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দেওয়া জেলা ভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর রাজশাহীতে পাঁচজন, নাটোরে দুজন এবং কুষ্টিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পাবনা, ঝিনাইদহ ও সিরাজগঞ্জে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট মৃত্যুর ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। আর রাজশাহীর বাসিন্দা ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী-এই দুই জেলার রোগীই মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, নাটোর ও কুষ্টিয়া মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা চারজন। আর পাবনা, ঝিনাইদহ ও সিরাজগঞ্জে সম্মিলিত মৃত্যু তিনজন। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ও সবচেয়ে কম মৃত্যুর মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃত্যুর সংখ্যা রাজশাহীর দ্বিগুণ এবং বাকি ছয় জেলার সম্মিলিত মৃত্যুর চেয়েও বেশি।
চাঁপাইনবাবগরঞ্জ ১০ জনের মৃত্যু, যা বিভাগের মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫ দশামক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় প্রতি দুইজন মৃত্যুর একজন এই জেলার। রাজশাহীতে পাঁচজনের মৃত্যু। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তুলনায় পাঁচজন কম। তবে নাটোর ও কুষ্টিয়ার তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলায় দুজন করে মারা গেছেন। এছাড়া পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় একজন করে মারা যান। এছাড়া রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ঝিনাইদহ জেলার একজনের মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী এই দুই জেলাতেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ বিভাগের মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৮.২ শতাংশ। এছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় সম্মিলিত মৃত্যু সাতজন। যা মোট মৃত্যুর ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃত্যুর সংখ্যা রাজশাহীর দ্বিগুণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃত্যুর সংখ্যা বাকি ছয় জেলার সম্মিলিত মৃত্যুর চেয়েও তিনজন বেশি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী মিলিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু। অর্থাৎ মৃত্যুর বড় অংশ এই দুই জেলার রোগীদের। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগীদের মৃত্যু অন্য জেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
তবে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের তথ্য নেই। এ জেলাগুলোতে আক্রান্ত রোগীরা অন্যসব নিকটতম হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, চলতি বছরে এই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। মৃত্যুর দিক থেকে পাঁচজন নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজশাহী জেলা।