কালীগঞ্জে

দারিদ্র্য হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায়

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
দারিদ্র্য হার মানাতে পারেনি রুকাইয়াকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায়

দারিদ্র দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকুলতার মধ্যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার হেলাই গ্রামের শিক্ষার্থী রুকাইয়া পারভীন। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে সে গৌরব বয়ে এনেছে পরিবার ও এলাকার জন্য। তবে ভালো ফলাফলের আনন্দের মাঝেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে মেধাবী এই শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটের কারণে তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের অসচ্ছলতা।

রুকাইয়া পারভীন কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার হেলাই গ্রামের রকিব মল্লিক ও লাভলী ইয়াসমিন দম্পতির কনিষ্ঠ কন্যা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। এরপর সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছে।

তবে রুকাইয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের সীমাহীন সংগ্রাম। তার বাবা রকিব মল্লিক একজন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক। প্রতিদিন তিনি ইজিবাইক চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসারের খরচ চলে। এর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার ব্যয় বহন করাও তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফলে মেধাবী মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন কীভাবে পূরণ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে দরিদ্র বাবার।

রুকাইয়া পারভীন জানায়, ছোটবেলা থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখি।আমি ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলীহতে চায়।আমার স্বপ্ন বুয়েটে(প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়)ভালো বিষয়েভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা এবং ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। বাবার একার পক্ষে আমার উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা কঠিন। তাই অনেক সময় মনে হয়, অর্থের অভাবে হয়তো আমার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আমি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে একদিন আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব। রুকাইয়ার বাবা রকিব মল্লিক বলেন, আমার মেয়ের পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। সে ছোটো থেকেই ভালো ফলাফল করে আসছে। একজন প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। বর্তমানে সে খুলনায়অবস্থান করে কোচিং করছে। আমিও চাই মেয়েকে ভালো একটি প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে উচ্চশিক্ষিত করতে।কিন্তু আমি একজন সামান্য ইজিবাইকচালক। প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষানুরাগী মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে মেয়েটিকে ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। আমি চাই, আর্থিক অভাবের কারণে আমার মেয়ের মেধা ও স্বপ্ন যেন ঝরে না যায়।

রুকাইয়ার পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তার অসাধারণ ফলাফল এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের কথা বিবেচনা করে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী ও বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে রুকাইয়া তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে পরিবার ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে