নাজিরপুরে

দিঘিরজান স্কুল এন্ড কলেজ, পাঁচ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮ শিক্ষক সবাই ফেল

এফএনএস (মুহাম্মাদ আল-আমীন হোসাইন; নাজিরপুর, পিরোজপুর) : | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
দিঘিরজান স্কুল এন্ড কলেজ, পাঁচ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮ শিক্ষক সবাই ফেল

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।

জানা যায়, দিঘিরজান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবারের  এইচ, এস, সি পরীক্ষায় ৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। নাজিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার মধ্যে নাজিরপুর উপজেলায়ও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এই প্রথম একটি কলেজ থেকে কোন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। 

কলেজ শাখায় ৮ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও কোন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

জানা গেছে, নাজিরপুর দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এর কলেজ শাখায় পাঠদানে অনুমতি পায় ২০১৪ সালে এর মধ্যে গত ৪ বছরের এইসএসসির ফলাফলে দেখা যায় উত্তীর্ণর সংখ্যা থেকে অনুত্তীর্ণর সংখ্যা বেশি রয়েছে। কলেজটিতে ২০২৩ সালে ৩৯জন পরিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছিল ১৮জন, ২০২৪ সালে ২৭ জন পরিক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ১৩জন, গত বছর ২০২৫ সালে ১৫জন শিক্ষার্থী পরিক্ষা দিলেও পাশ করে মাত্র ৫ জন এবং এবছর ২০২৬ সালে পরিক্ষায় ৫জন শিক্ষার্থী অংশ নেন, তবে একজনও পাশ করতে পারেনি। এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে পঁাচ জন শিক্ষার্থী এইচ,এস ,সি পরীক্ষায় অংশ নেয়। 

নাজিরপুর দিঘিরজান সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর ব্যবসায়ী বিভাগের শিক্ষক সুমন বিশ্বাস বলেন, ২০১৪ সালে কলেজটি পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষকরা সরকারিভাবে কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে শিক্ষকরা আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তিনি আরও বলেন, নন-এমপিওভুক্ত হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না। তারপরও কলেজটি টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও কলেজে আসে না। এর ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আজ ছয়জন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও একজন শিক্ষার্থীও কলেজে আসেনি। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না হলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিই ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। দিঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজের দায়িত্ব নেওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম অসুস্থ থাকায় তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।