ফেরি সরানো হলো, জনবলও অন্যত্র-অনিশ্চয়তায় চিলমারী ঘাট

এফএনএস (মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম সিদ্দিক; চিলমারী, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ফেরি সরানো হলো, জনবলও অন্যত্র-অনিশ্চয়তায় চিলমারী ঘাট

কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ। ঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ফেরি, অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে ফেরি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের। বন্ধ রয়েছে ঘাটের অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রমও। অথচ একই সময়ে ৩৪৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্দর উন্নয়নের সুফল, ফেরি সার্ভিসের ভবিষ্যৎ এবং জনবল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু হয়। কয়েক দফা বন্ধ ও চালুর পর নাব্যতা সংকটের কথা উল্লেখ করে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট থেকে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু না হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফেরি কুঞ্জলতা এবং পরে ফেরি কদমকে মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে নেওয়ার কথা বলে ঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বর্তমানে কুঞ্জলতাকে চাঁদপুর ঘাটে এবং কদমকে ভোলা ঘাটে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফেরি দুটি অন্য ঘাটে সংযুক্তির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ফলে ফেরি দুটি মেরামতের জন্য নেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য ঘাটে কাজে লাগানো হচ্ছে-তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এদিকে চিলমারী ঘাটে বাণিজ্য, মেরিন, হিসাব, প্রকৌশল ও ফেরি পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত প্রায় ৪৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের কয়েকজনকে ধাওয়াপাড়া নদীবন্দর, ঢাকা-কাশীপুর, আরিচা ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত ও বদলি করা হয়েছে। চিলমারী কলেজ মোড়ের অস্থায়ী কার্যালয়টিও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চিলমারী নদীবন্দরের সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, “এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশের অন্যান্য ফেরিঘাটে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেরি চালু করা হলে তাঁদের আবার এ ঘাটে নিযুক্ত করা হবে।” তবে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ফেরি দুটি কবে ফিরবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। চিলমারী-রৌমারী নৌ-পথে ফেরি চালু থাকলে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের নদী পারাপার সহজ হয়। ফেরি বন্ধ থাকলে বিকল্প পথে চলাচলে সময় ও ব্যয় বাড়তে পারে। এতে ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।সাদেকুর রহমান নামে এক ট্রাকচালক বলেন, “ফেরি বন্ধ থাকায় আমাদের বিকল্প পথে ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি জ্বালানি খরচও বাড়ছে। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালু হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।” কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “চিলমারী-রৌমারী নৌ-পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে ফেরি তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফেরিঘাটে সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমি সংসদে নোটিশ দিয়েছি। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে কথা বলব।”