ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ফেরার সুযোগ থাকলেও সফরসঙ্গীদের ছেড়ে যাননি প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ফেরার সুযোগ থাকলেও সফরসঙ্গীদের ছেড়ে যাননি প্রধানমন্ত্রী

জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কিছুটা বিলম্বের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে চাইলে বিকল্প বিমানে দেশে ফেরার সুযোগ থাকলেও সফরসঙ্গীদের রেখে একা ফিরতে রাজি হননি তিনি। বরং অন্য যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। 

আজ  শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জাপান থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার আগে বিমানটির পর্যবেক্ষণের সময় সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। বিষয়টি বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত ত্রুটির সমাধান করা হয়।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, ত্রুটির কারণে ফ্লাইট ছাড়তে কিছুটা দেরি হলেও প্রধানমন্ত্রী চাইলে অন্য বিমানে দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু সফরসঙ্গী ও অন্য যাত্রীদের রেখে তিনি সেই বিকল্প বেছে নেননি। বরং বিমানের ভেতরে যাত্রীদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন।


এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও যাত্রীদের খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে শিশুদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে নজর দেন তিনি। শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের কান্নাকাটি না করার এবং স্বস্তিতে দেশে ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। তিনি যাত্রীদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করেন।

চার দিনের সরকারি জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করেন তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।

এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে