লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত ক্ষেতলালের কৃষক

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত ক্ষেতলালের কৃষক

গত মৌসুমে আলু তোলার সময় হঠাৎ বৃষ্টির হানা ও ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষকরা। কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেই ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবার নতুন করে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি কৃষকদের।

আশ্বিন মাসে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় আগাম আলু রোপণে কিছুটা বিলম্ব হলেও অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলু রোপণ। আমন ধান কাটার পর উঁচু জমি গুলো ফেলে না রেখে ভালো দামের আশায় আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এখন আলুর জমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলাল উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার ভাশিলা গ্রামের কৃষক আলামিন এবার ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি তিন ধাপে আলু রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আগাম প্রথম ধাপে ১০ বিঘা জমিতে মিউজিকা, এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ধাপে ১০ বিঘায় বাড়ি ৮৬ লাল এবং ক্লোল্ডস্টোরেজে রাখার জন্য তৃতীয় ধাপে ১০ বিঘায় এস্টরিক্স জাতের আলু চাষ করবেন তিনি।

আলামিন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে আলু রোপণ থেকে উত্তোলন পর্যন্ত খরচ হবে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। গত মৌসুমে তিনি ১ হাজার ৪৮১ বস্তা আলু কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করেছিলেন। ওই আলুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১২ লাখ টাকা। কিন্তু সংরক্ষণের পর বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এতে তার লোকসান হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।তিনি বলেন, আগাম জাতের আলু সাধারণত ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন করা যায়। অক্টোবরের মাঝামাঝি রোপণ করা আলু ডিসেম্বরের দিকে তোলা সম্ভব হলে বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ কম থাকার সুযোগে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গত বছরের লোকসানের কথা বিবেচনা করে এবার তিন ধাপে আলু চাষের পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী এবার ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিবছর উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এবার বীজের দাম কিছুটা কম থাকলেও সার ও শ্রমিকের মজুরি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সার সংগ্রহে পরিচয়পত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার কারণে ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন তিনি। ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে আবারও লোকসানের আশঙ্কা করছেন এই কৃষক। উপজেলার তেলাল মুরারীপুর গ্রামের কৃষক রেজোয়ান ও গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে জানান, গত বছরের লোকসান এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। তবু জমি ফেলে না রেখে নতুন মৌসুমে আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, এবার উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম পাওয়া যাবে। এদিকে আগাম আলু রোপণকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ কৃষিশ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। আমন ধান কাটা, জমি প্রস্তুত, আলু রোপণ ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন বলেন, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের আলু চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে, অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের পাশাপাশি এবার আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে। এতে গত মৌসুমের লোকসান কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে