চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৫ জন, তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর ধসে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টির আশপাশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। লাসা থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ৩৯০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিকম্পে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। আরও বহু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিধস ও পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ায় কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়। শুক্রবার সকালে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে চার শতাধিক পরাঘাত বা আফটারশকের খবর পাওয়া গেছে। ইউএসজিএস ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাতটি কম্পন শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২ এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার কারণে ১২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে ৩৫০ জনের বেশি কর্মী এবং ৮৩টি জরুরি যানবাহন মোতায়েন করা হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং দ্রুত উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ৫ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে চীন সরকার। ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে চলাচলকারী রেলসেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
ভূমিকম্পের পর পরাঘাতের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা রাত বাইরে কাটিয়েছেন। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিবিসিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘর কাঁপতে শুরু করলে তিনি খালি পায়ে বাইরে ছুটে যান। আরেক বাসিন্দা বলেন, কম্পনটি এমন ছিল, যেন শত শত ইয়াক একসঙ্গে দৌড়ে যাচ্ছে।
তিব্বত ও এর আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিব্বত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসেও ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।