পুঠিয়ায় মাদক কেনাবেচা রমরমা

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
পুঠিয়ায় মাদক কেনাবেচা রমরমা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় মাদক কারবারিদের কেনাবেচা রমরমা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ উপজেলায় মাঝেমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আটক করে জেল জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উপজেলায় হাতেগোনা বড় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ধোঁয়াছোয়ার বাহিরে থেকে মাদক কারবারি চালিয়ে আসছে। তারা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক কেনাবেচা করছে। এতে করে উপজেলার পুঠিয়া এবং বেলপুকুর থানা এলাকা দুইটিতে মাদককারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুঠিয়া পৌর সদরের ৪নং ওয়ার্ডের আদিবাসি পাড়ায় মাঝেমধ্যে সাবেক সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস চোলাই মদ তৈরি করার কারখানায় অভিযান চালায়ে মাদক কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে রেখে ছিলেন। বর্তমানে চোলাই মদ তৈরি করা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা পূর্বের ন্যায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার চোলাই মদ উৎপাদন এবং বিক্রি করছে। বেশ কয়েক বছর ধরে নতুন কায়দায় আদিবাসীরা চোলাই মদ বিক্রি করছে। বিভিন্ন স্থানে পরে থাকা পরিত্যক্ত কমল পানির বোতল সংগ্রহ করে তার ভেতরে চোলাই মদ ঢোকায়ে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীরা একাধিকবার মৌখিক থানায় অভিযোগ দিয়ে কোনো সুরাহা পাচ্ছে না। চোলাই মদ খেয়ে অনেকে বেহুস হয়ে যেখানে সেখানে পরে থাকতে দেখা যায়। আবার কেউ মদ খেতে এসে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। থানা হতে আদিবাসি পাড়ার দুরত্ব মাত্র প্রায় ৪শত মিটার হবে। রাজশাহী হতে এসআরবি-৫ এসে আদিবাসি পাড়ায় অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্ত থানা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা সেখানে চুপ হয়ে রয়েছেন। যেসব এলাকায় মাদক কারবারিদের রমরমা কেনাবেচা হচ্ছে, পুঠিয়া বাজার, মোল্লাপাড়া,কান্দ্রা গুচ্ছুগ্রাম, ধোপাপাড়া, ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম, শিবপুর বাজার, বানেশ্বর হাট এলাকা,পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম, ঝলমলিয়া বাজার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন বেলপুকুর থানা এলাকায় জামিরা, ডিসির মোড়, বগারটেকসহ একাধিক স্থানে মাদক কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আদিবাসি পাড়ার স্থানীয়রা জানায়, প্রতিটি মাদককারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা এবং পুলিশের কিছু সদস্যের সমঝোতা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদক কারবারিরা বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক সদস্যরা এই উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সখ্যতা থাকায় নির্দ্বিধায় মাদক কারবারি করতে পাড়ছে। আদিবাসী পাড়ায় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন কর্মীরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। আদিবাসী পাড়ায় চোলাই মদ তৈরি করার উপাদান ক্ষমতাসীন দলের দুইজন কর্মী সরবরাহ করছে। তাই, উপজেলা জুড়ে হাত বাড়ালেই ট্যাপেন্টাডল,ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইরোইন, গাঁজা ও চোলাই মদ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট মাদক বিক্রেতারা বলছে, পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি করে তারা মাদক কারবার করে আসছে। চুক্তি না করলে একদিনও মাদককারবার করা সম্ভব না। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উপজেলা প্রশাসানম, থানা পুলিশ ও  মাদকদ্রব্য সদস্যরা মাঝেমধ্যে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আটক করে জেল জরিমানা আদায় করতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে উপজেলায় হাতেগোনা বড় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ধোঁয়াছোয়ার বাহিরে থেকে মাদক কারবারি চালিয়ে আসছে। তারা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক প্রকাশ্যে কেনাবেচা করছে।  অথচ জেলা গোয়েন্দ পুলিশ (ডিবি),ডিএসবি এনএসআই প্রশাসনিক ভূমিকা রাখছেন না। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল তার দলীয় এবং সরকারি প্রতিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মাদক কারবার বন্ধ করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়ে আসছেন। মাদকের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরছেন। কিন্তু মাদক কেনাবেচা কোনোক্রমে বন্ধ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পুঠিয়া মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা (রাজশাহী-খ অঞ্চলের সার্কেল পরিদর্শক) হেলাল উদ্দিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স অবস্থা নিয়েছি। মাদক বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে