সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা এবার নানা আনুষ্ঠানিকতার পর শেষ হলো। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস মতে, এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যে এসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে আর ফিরে গেলেন নৌকায় চড়ে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজশাহীর তানোর উপজেলাজুড়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। দেবী বিদায়ের সুরের মাঝেও পূজারিদের মাঝে ছিল ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা।
অন্যদিকে, দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে তানোর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসব শেষ হয়।
জানা গেছে, প্রতিবারের ন্যায় এবারও তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভাজুড়ে মোট ৫৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে কলমা ইউনিয়নে ১টি, পাঁচন্দর ইউনিয়নে ৩টি, সরনজাই ইউনিয়নে ১টি, তালন্দ ইউনিয়নে ৩টি, কামারগাঁ ইউনিয়নে ২৭টি, চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নে ৩টি, তানোর পৌরসভায় ১৩টি এবং মুণ্ডুমালা পৌরসভায় ১টি মণ্ডপের প্রতিমা স্থানীয় জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শম্ভুনাথ ও সাধারণ সম্পাদক গণেশ জানান, ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শেষ হয়েছে। তবে তারা উল্লেখ করেন, গত বছরের তুলনায় এবার পূজায় সামগ্রিক ব্যয় অনেকটাই বেশি ছিল।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তায় প্রতিটি মণ্ডপেই প্রস্তুত ছিল তানোর উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ভ্রাম্যমাণ আদালত ছাড়াও প্রশাসনের বিশেষ টিম মাঠে তৎপর ছিল।
এ ব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, "তানোরে তেমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ ছিল না। তবুও আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন সম্পন্ন হয়েছে।" ই/তা