ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুবাসে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। নগর থেকে গ্রাম-সবখানেই পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মণ্ডপে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
পূজা উপলক্ষে সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপ সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। মণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা।
এ বছর সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগর এলাকায় সার্বজনীন ১৪৬টি এবং পারিবারিক ১৬টি পূজার আয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার্বজনীন ৪৭৪টি ও পারিবারিক ২৬টি পূজার আয়োজনের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে জকিগঞ্জে সার্বজনীন ৯৩টি ও পারিবারিক দুটি, গোলাপগঞ্জে সার্বজনীন ৫৮টি ও পারিবারিক পাঁচটি, বিয়ানীবাজারে সার্বজনীন ৪২টি ও পারিবারিক ১২টি এবং ফেঞ্চুগঞ্জে সার্বজনীন ৪০টি ও পারিবারিক একটি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া গোয়াইনঘাটে ৪০টি, ওসমানীনগরে ৩৯টি, কানাইঘাটে ৩৫টি, বালাগঞ্জে ৩০টি, কোম্পানীগঞ্জে ২৮টি, বিশ্বনাথে ২৩টি এবং জৈন্তাপুরে ২০টি সার্বজনীন পূজার আয়োজন রয়েছে।
সিলেট মহানগরের থানা এলাকাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় সার্বজনীন ৩১টি ও পারিবারিক ১১টি, জালালাবাদ থানা এলাকায় সার্বজনীন ১৯টি ও পারিবারিক দুটি, এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় সার্বজনীন ৩৯টি ও পারিবারিক একটি এবং শাহপরাণ (র.) থানা এলাকায় সার্বজনীন ২৫টি ও পারিবারিক একটি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমায় সার্বজনীন ১৫টি এবং মোগলাবাজারে সার্বজনীন ১৭টি ও পারিবারিক একটি পূজার আয়োজন রয়েছে।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আয়োজকেরাও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছেন। এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুভেচ্ছাবাণীতে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে। নির্বাহী আদেশে পূজার ছুটি বাড়ানোর ফলে উৎসব উদ্যাপনের সময়ও দীর্ঘ হয়েছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের বিভিন্ন পর্ব সম্পন্ন হবে। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়। দুর্গোৎসবের পর আগামী ২৫ অক্টোবর শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্ণীপূজা এবং ৮ নভেম্বর শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে-এমন প্রত্যাশা আয়োজক ও ভক্তদের।