বরিশালে নয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত 'শান্তি নিবাস' প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হলেও নির্মাণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো প্রবীণের ঠাঁই হয়নি। নানামুখী অজুহাতে এর কার্যক্রম চালু না করায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পরে রয়েছে ভবনটি। ফলে অযত্ন ও অবহেলায় ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট হতে বসেছে। রাষ্ট্রীয় সহায়সম্পদের এমন অপব্যবহারের দায় কার-তা নিয়ে সামাজিক ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রমতে, বরিশাল অঞ্চলে অনেক সহায়-সম্বলহীন প্রবীণ মানুষ বয়সের ভারে ন্যূব্জ হয়েও দিনমজুরি করে জীবন কাটাচ্ছেন। শেষ বয়সে এসে অনেকেরই শেষ ঠিকানা হচ্ছে খোলা আকাশ বা রাস্তার পাশ। অথচ সর্বশেষ 'জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২'-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ১৭১ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৯.২৮ শতাংশ। কেবল বরিশাল বিভাগেই ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণের সংখ্যা ৯ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৬ জন। এই বিপুল সংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশেরই প্রয়োজন নিরাপদ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা।
প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয় ও রাষ্ট্রীয় পরিচর্যার লক্ষ্যে বরিশালে ২০২৩ সালে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন তলা বিশিষ্ট আধুনিক এই 'শান্তি নিবাস' নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ভবনে প্রবীণদের আরামদায়ক অবস্থানের জন্য আধুনিক সজ্জাকক্ষ, স্বাস্থ্যসেবা কর্নার এবং বিনোদনের সুব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সুষ্ঠু পরিচালনার অভাবে এই আধুনিক আয়োজন ও আশ্রয়ন কেন্দ্রটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে নষ্ট হতে চলেছে।
সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উল্লাস রায় বলেন, "শিশু ও প্রবীণদের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটি সরকারের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।" জেলা মহিলা পরিষদের বরিশালের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, "সরকারি নজরদারির অভাব ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদাসীনতার কারণেই আজ এই শান্তি নিবাস নষ্ট হচ্ছে। প্রবীণদের কল্যাণে এটি অবিলম্বে চালু করা অত্যন্ত জরুরি।"
এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর, বরিশালের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শাহ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, "বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো সৃজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শীঘ্রই জনবল বরাদ্দ পাওয়া গেলে 'শান্তি নিবাস'-এর মূল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক গাফিলতি কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে 'শান্তি নিবাস' চালু করে প্রবীণদের প্রাপ্য আশ্রয় ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।