গত ৫ দিনেও দাকোপের বটবুনিয়া ভাঙন কবলিত এলাকায় বিকল্প বেড়ীবাঁধ নির্মিত না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর। ঝুঁকিতে প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির আমন ফসল।
গত ১১ অক্টোবর রবিবার সকালে দাকোপের বটবুনিয়া বাজারের হরিসভা মন্দির এলাকায় আনুমানিক ৫০ মিটার ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ ঢাকী নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষনিক বালির বস্তা ও টিউব ফেলে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় ভাঙন কবলিত বাঁধের অবস্থা অপরিবর্তিত। অর্থাৎ গত ৫ দিনেও সেখানে টেকসই বিকল্প বেড়ীবাঁধ নির্মান কাজ শুরু হয়নি। সেখানে থাকা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকার সাব ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আঃ রহমান এবং উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নয়ন আলীর সাথে কথা হয়। তারা জানায় ভাঙনের গতিপথ এবং অবস্থা পর্যবেক্ষন করে বিকল্প বাঁধ নির্মান করা হবে। যে কারনে একটু সময় নেওয়া হচ্ছে। তবে এ সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প বাঁধের কাজ শুরু হবে এমন দাবী তাদের। ভয়াবহ ওই ভাঙনে সেখানকার ৭ টি পরিবারের ঘরবাড়ীসহ সকল মালামাল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাদেরই একজন কৃষ্ণপদ সরদার আত্ননাদ করে বলেন, কিছু দিন আগে একবার ভাঙনের কারনে বাড়ী বদল করেছি। সর্ব শেষ দ্বিতীয় দফা ভাঙনে আমার ঘরবাড়ী অন্যান্য মালামাল এমনকি স্বর্ণালংকর ও নদীতে চলে গেছে। এখন খোলা আকাশের নীচে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। একই অবস্থা প্রশান্ত সরদার, যদুবর সরদার, নিরঞ্জন মিস্ত্রি, অজিত সরদার, অলকেশ সরদার এবং রনজিত সরদারের পরিবারের।
এ বিষয়ে তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, অতিদ্রুত বিকল্প বেড়ীবাঁধ নির্মান না হলে সমগ্র ৩১ নং পোল্ডার প্লাবিত হওয়ার আশংকা আছে। সে ক্ষেত্রে আনুমানিক ৫ হাজার বিঘা জমির আমন ফসল ঘরবাড়ী ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ভাঙনের কারনে সার্বক্ষনিক আতঙ্কে থাকার কথা উল্লেখ করে স্থানীয়রা জানায়, ভাঙনকুলে বসবাসরতরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধ করার জন্য জায়গা না দেওয়ায় এই পরিনতি হয়েছে। এদিকে ভাঙনে গৃহহারা ৭ পরিবারের মাঝে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমির এজাজ খানের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিবার প্রতি ৩০ কেজি চাউল ও নগত ৬ হাজার করে টাকা ত্রান সহায়তা দিয়েছেন। এ ছাড়া আসন্ন দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে গৃহহারাদের অর্থ সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে বেড়ীবাঁধে অব্যহত ভাঙনের কারনে অনুরুপ ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় আছে উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা এবং চালনা পৌরসভার খলিশা এলাকার বাঁধ।