সীমান্ত পেরিয়ে সার পাচার, দ্রুত ব্যবস্থা নিন

এফএনএস
| আপডেট: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম | প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
সীমান্ত পেরিয়ে সার পাচার, দ্রুত ব্যবস্থা নিন

দেশব্যাপী চলমান সারসংকটের মধ্যেই প্রতিবেশী মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে ইউরিয়া ও টিএসপি সার। ডিলারদের বড় একটি অংশ বস্তাপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাভের আশায় করছে পাচার। সরকার নির্ধারিত দামে সার দুর্লভ। এমনকি কোথাও বেশি দাম দিয়েও মিলছে না সার। এমন পরিস্থিতিতে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার জল ও স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। দিনের পর দিন কক্সবাজার, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে পাচার হচ্ছে সার। বাড়তি লাভের আশায় সার ডিলার ও সার পরিবহন ব্যবসায়ীদের একটি অসাধু চক্র এর সাথে জড়িত। বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একের পর এক সারের চালান আটক হলেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, বাংলাদেশে যে ইউরিয়া সার প্রতি বস্তা প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়, মিয়ানমারে তা বাংলাদেশি টাকায় ৬ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। এ মূল্য ব্যবধানই পাচারকারীদের বড় ধরনের মুনাফার সুযোগ তৈরি করছে। তবে সরকারি রেটে অনেক সময় সার না পাওয়ায় প্রতি বস্তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বাংলাদেশে ক্রয় করে পাচারকারীরা মিয়ানমারে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে। সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, এক হাজার বস্তা সার মিয়ানমারে পাচার করে বিক্রি করা সম্ভব হলে চালানটির মূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনই সংঘবদ্ধ চক্রকে পাচারে উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মিয়ানমারে সার ছাড়াও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ও নির্মাণসামগ্রীর সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে দেশটিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা দেশে আনার অভিযোগ সত্য হলে তা সীমান্তপথে মাদক ও পণ্য চোরাচালানের আন্তঃসম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ায়। সব মিলিয়ে সার পাচারের রুটগুলো ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা, জব্দ করা সারের উৎস শনাক্ত করা এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সার পাচারের সঙ্গে মাদক চোরাচালানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা শুধু কৃষি খাত নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষা ও এসব অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে