৩৫ বছর পেরোলে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত, কার্যকর ২০৩০ সালে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
৩৫ বছর পেরোলে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত, কার্যকর ২০৩০ সালে
ফাইল ছবি

৩৫ বছর বয়স পার হলে নতুন করে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, আইন পেশার মর্যাদা ও মান উন্নত করতে নির্ধারিত বয়সের পর নতুন করে এ পেশায় প্রবেশের পথ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়মটি ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে আইন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতে বলেছি।” এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরে আইনমন্ত্রীও বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, চলতি বছরের ১৯ আগস্ট বার কাউন্সিল ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

আইন পেশার মান ও জবাবদিহিতে জোর

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন বা অন্য পেশায় কর্মরত কেউ কেউ অবসরের পর আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই প্রবণতা বন্ধ করে আইন পেশাকে আরও সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যেতে চায় সরকার।

আইনজীবীদের নৈতিকতা ও জবাবদিহির বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রীর মতে, শুধু মামলা পরিচালনা বা আইনি দক্ষতা থাকলেই চলবে না, পেশাগত সততা বজায় রাখাও জরুরি। মক্কেলকে মামলা জেতানোর নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ নেওয়া এবং পরে ফল অনুকূলে না এলে টাকা ফেরত দেওয়ার নামে নানা ধরনের লেনদেনের প্রবণতা বন্ধ হওয়া দরকার।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে আইনজীবীদের নৈতিকতা ও পেশাগত আচরণের বিষয়ে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারকদের মতো আইনজীবীদেরও জবাবদিহির আওতায় থাকা প্রয়োজন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ ইন্টার্ন যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পছন্দের ব্যক্তিদের বেছে নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাক্রম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে।

আইন পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশন আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং সাইবার আইন সংশোধনের মতো বিষয়ে সরকারের কাজের কথা তুলে ধরে এসব উদ্যোগে ইন্টার্নদেরও ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একজন আইনজীবীর জ্ঞান শুধু আইনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি অসচ্ছল মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনার মানসিকতাও গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। অনুষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে