বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে তিন শতাধিক রোগীকে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়েছে। এ ক্যাম্প থেকে বাছাই করা ১৮ জন বয়স্ক রোগীর চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। তরুণ সমাজসেবক ও বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এম আর হাসান পলাশের সার্বিক সহযোগিতায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের মাদারতলা বাজার মাদ্রাসা মাঠে এ চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ডা. ইব্রাহিম আই কেয়ার সেন্টারের আয়োজনে এবং লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫এ২ বাংলাদেশের সহযোগিতায় ক্যাম্পে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা গ্রহণ করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পে তিন শতাধিক রোগীকে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্য থেকে চোখের ছানিতে আক্রান্ত ১৮ জন বয়স্ক রোগীকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। আর্থিক অসচ্ছলতা ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে যাঁদের পক্ষে চোখের ছানি অপারেশন করানো কঠিন, তাঁদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এ মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এম আর হাসান পলাশ। তাঁর সহযোগিতায় এলাকার অসচ্ছল ও বয়স্ক মানুষ বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে ছানি অপারেশনের জন্য রোগী বাছাই ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্যোগটি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চোখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের ছানিসহ বিভিন্ন সমস্যায় অনেক প্রবীণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধার মুখে পড়েন। অর্থাভাবে অনেকের পক্ষে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন এবং ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এম আর হাসান পলাশ বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ যেন অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছি। চোখের আলো ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে একজন মানুষ আবার স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনের সুযোগ পেতে পারেন। মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে চাই। তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের উচিত অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসা। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব।
প্রবীণ এলাকাবাসীরা জানান, এ ধরনের বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসুবিধা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য চক্ষুসেবার সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোর ওপর চিকিৎসার আর্থিক চাপও কমতে পারে। রামেশ্বরপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এ চক্ষু ক্যাম্প স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকার আরও অসচ্ছল মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।