রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মামলায় এনসিপি ও জামায়াতের নেতা, কৃষক দলের নেতা এবং সার ডিলারপ্রত্যাশীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতা আতিকুর রহমান। সোমবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সরকারি কাজে বাধা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, গোদাগাড়ী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, জামায়াত নেতা মাহফুজ, রাজশাহী জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব আব্দুল হামিদ বাবলু, সার ডিলারপ্রত্যাশী ইলিয়াস আলী, এনসিপি নেতা মোফাজ্জল হোসাইন আনাম ও হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিওচিত্র ও তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, মামলা প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা আতিকুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিএনপির অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ভীত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে। তবে তাঁরা এতে ভীত নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের মামলা দিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন এই নেতা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে গোদাগাড়ী উপজেলা ও বিভিন্ন পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপি নেতারা ‘মব কালচার’-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তাঁরা ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাজে সহযোগিতা এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশীদার হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কাঁকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল সরকার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব, সহসভাপতি মোস্তফা ও নাসির উদ্দিন বাবু, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অরণ্য কুসুম ও সদস্য ডালিম, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ ও সদস্যসচিব বাবু, কাঁকনহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মশি ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরসালান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ ও সদস্যসচিব কাওসার এবং পৌর ছাত্রদলের মোবিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সোমবার দুপুরে ইউএনও ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে তাঁর কার্যালয় ঘেরাও করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোদাগাড়ী উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নেতাকর্মীরা। তাঁরা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে কর্মসূচি শুরু করেন। একপর্যায়ে ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে যায় দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয় এবং পরদিন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।