চাঁদপুর মেঘনায় জেলে ধাওয়া করতে গিয়ে নৌ পুলিশের

স্পিডবোট ডুবি, নিখোঁজ শটগান উদ্ধারে ডুবুরি দল, গ্রেপ্তার ২৮

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
স্পিডবোট ডুবি, নিখোঁজ শটগান উদ্ধারে ডুবুরি দল, গ্রেপ্তার ২৮

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গিয়ে মেঘনা নদীতে আকস্মিক এক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে নৌ-পুলিশ। নদীর বুকে ইলিশ শিকারি জেলেদের ধাওয়া করতে গিয়ে উল্টে ডুবে গেছে নৌ-পুলিশের একটি স্পিডবোট। ঘটনায় দায়িত্বরত সদস্যরা অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেও নদীর পানিতে নিখোঁজ হয়ে গেছে পুলিশের ব্যবহৃত একটি শটগান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার ‘সটাকি লঞ্চঘাট’ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মেঘনার মূল স্রোতে এই ঘটনা ঘটে।

চাঁদপুর সদর নৌ-পুলিশের ইনচার্জ আজমগীর হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সকালে নিয়মিত টহলে ছিল পুলিশ। সটাকি লঞ্চঘাটের কাছে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের দৃশ্য চোখে পড়লে পুলিশ সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে দ্রুত গতিতে জেলেদের পিছু ধাওয়া করেন। এসময় তীব্র ঢেউ ও নদীর প্রতিকূলতার মুখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্পিডবোটটি নিমজ্জিত হয়। নৌ-পুলিশের সদস্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও একটি শটগান পানির নিচে তলিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, নিমজ্জিত স্পিডবোটটি নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে নিখোঁজ অস্ত্রটির সন্ধান পেতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে স্পেশাল ডুবুরি দল মোতায়েন করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় অভিযান ও ২৮ জেলে গ্রেপ্তার অন্যদিকে, নদীজুড়ে মা ইলিশ সংরক্ষণে নৌ-পুলিশ ও জেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁদপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪টি মামলা দায়ের এবং ২৮ জন অসাধু জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে চাঁদপুর সদর নৌ-পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৪ জন এবং মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ১০ জন জেলে ধরা পড়ে। বাকি ৪ জনকে নদীর অন্যান্য পয়েন্ট থেকে নৌ-পুলিশের বিভিন্ন টিম গ্রেপ্তার করে।

অভিযানকালে উদ্ধার করা হয় একাধিক মাছ ধরার নৌকা, বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল এবং সদ্য শিকার করা মা ইলিশ। নিয়ম অনুযায়ী, জব্দকৃত মা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং পরিবেশ ও নদী রক্ষায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জালগুলো স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে