শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা

এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

এফএনএস | প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

শিশু ও কিশোরদের বেড়ে ওঠার জগৎ এখন আর শুধু পরিবার, বিদ্যালয় কিংবা খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ নেই। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তারের ফলে তাদের বড় একটি সময় কাটছে ভার্চুয়াল জগতে। প্রযুক্তির এই প্রসার শিক্ষা, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তির নতুন সুযোগ তৈরি করলেও এর অন্ধকার দিকও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে অপহরণ, প্রতারণা, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং সহিংস অপরাধের ঘটনা বাড়তে থাকায় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এখন জনস্বার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামপ্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক ঘটনা দেখিয়েছে, অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে অনলাইন পরিচয় বাস্তব জীবনে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে নিরাপদ মনে করে, কিন্তু বাস্তবে সেই বিশ্বাসই তাদের অপরাধীদের ফাঁদে ঠেলে দেয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই এই ঝুঁকির পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ পরিবার কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটের আওতায় এসেছে এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। ফলে শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নটি আর পারিবারিক সীমার মধ্যে নেই; এটি জাতীয় নীতি ও জননিরাপত্তার বিষয়। সমস্যার আরেকটি দিক হলো, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের পর্যায়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের সক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে ওঠে না। ফলে অনলাইনে দেওয়া প্রলোভন, পরিচয়ের ফাঁদ বা বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি তারা সহজে বুঝতে পারে না। অপরাধীরা এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই অপরাধের ধরন প্রচলিত অপরাধের তুলনায় আরও জটিল, কারণ এর অনেক কিছুই অভিভাবকদের চোখের আড়ালে ঘটে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা, পরিচয় যাচাই এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশেও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো এখনো কার্যকর ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে ওঠেনি। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; তার কার্যকর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে শিশু সুরক্ষায় আরও দায়বদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অভিভাবকদের ডিজিটাল সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে দায়িত্বশীল নজরদারি করতে পারেন। তৃতীয়ত, বিদ্যালয় পর্যায়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে পাঠদান চালু করা প্রয়োজন। চতুর্থত, সরকারকে বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যকর অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।